টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে সার কারখানার ট্যাংকে ছিদ্র, গ্যাসে অসুস্থ অর্ধশত

gassচট্টগ্রাম, ২৩ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): জেলার আনোয়ারা উপজেলায় একটি ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার ট্যাংক ফুটো হয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার পর গ্যাসের তীব্রতায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্তত ৫০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী সার কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। কারখানাটি চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এর সীমানায় অবস্থিত।

আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই সার কারখানার ট্যাংক থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া গ্যাস কর্ণফুলী নদীর অপর তীরের পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দরসহ আশপাশের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

তবে রাত সোয়া একটার দিকে কারখানার প্রকৌশলীরা গ্যাস লিকেজ বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু এরই মধ্যে চট্টগ্রামের সর্বত্র অ্যামোনিয়া গ্যাস আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

সিএমপি’র বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম জানান, গ্যাস নিঃসরণ শুরু হলে আশেপাশের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি শুনেছেন।

ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল বড়ুয়া অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সার কারখানার প্রধান ফটকের কাছে ৫০০ টন ধারন ক্ষমতার অ্যামোনিয়া গ্যাস স্টোরেজ ট্যাংকে লিকেজের সৃষ্টি হয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাত সোয়া ১টার দিকে কারখানার প্রকৌশলীরা লিকেজ বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন।

স্থানীয়রা জানান, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার কর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে বেশি আক্রান্ত হন নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। এলাকাবাসী আনসার সদস্যদের উদ্ধার করে কারখানার চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

ঘটনার পর পরই কাফকো ও সিইউএফএলের বিশেষ টিম উদ্ধার অভিযানে নামে। পরে পটিয়া, চট্টগ্রাম থেকে থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে কৃত্রিম বৃষ্টির ব্যবস্থা করে।

চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রন কক্ষের অপারেটর মো. মামুন জানান, চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার পটিয়া, লামারবাজার, নন্দনকানন স্টেশন থেকে চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং কৃত্রিম বৃষ্টির ব্যবস্থা করে।

আনোয়ারা কাফকো মেডিকেল সেন্টারে খবর নিয়ে জানা যায়, তাদের এখানে গ্যাস আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ প্রায় অর্ধশত মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- মোহাম্মদ জয়নাল (৩৫), জনি (৩৮), শাহজাহান (৪০), রায়হান (৫০), মোস্তাফিজ (২৪), এনামুল (৩৫), হুমায়ুন (৫০), নুরুন্নবী (৩৫), বাবলু (২৯), আবদুর রব (৫০), জাহাঙ্গীর (২৪), কামাল (২৬), কুদ্দুছ আলী (৪০), মোছলেম উদ্দিন (২৫), সুজা মিয়া (৩৫), রবিন (২৪), সেলিম (২৬), সুমন (২২), রওশন আলী (৪৫), খোরশেদ আলম (৫০), এহসান আলী (২৪), নুরুল আমিন (৫০), সাজ্জাদ হোসেন (৪০), জাহের (৪০), দিদারুল (৩০), নাসির (৩৫), আবদুর রহমান (৩০), জসিম উদ্দিন (২৪), আনোয়ার (৩৮), জামাল (২৭), সাইফুল (২৮), সোহেল (২৭) ।

গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলার বৈরাগ, বন্দর, রাঙ্গাদিয়া, গোবাদিয়াসহ আশপাশের গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলে আতঙ্ক বৃদ্ধি পায়। গভীর রাতেই এলাকার বাসিন্দারা দুরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিতে ছুটতে থাকেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গ্যাস আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ৩০ থেকে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওই কারখানার কাছাকাছি কর্ণফুলী নদীর বিপরীতে অবস্থিত পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলমগীর জানান, ড্যাপ কারখানা থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর পতেঙ্গা এলাকাতেও অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে রাত দেড়টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত