টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জাতির জনকের অবমাননায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম, ২২ আগস্ট ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানকে নিয়ে কোনো অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বা ওয়েবসাইট কোনো ধরনের বিভ্রান্তমূলক সংবাদ বা তথ্য প্রচার করলে বা তার মদদ দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন বা সর্বনিম্ম ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকার অর্ধদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আজ সোমবার এই বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৬’ নামের একটি নতুন আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে দুপুরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

সচিব জানান, আইনটির ১৫ ধারার উপধারা ২, ৩, ৪ ও ৫ এ সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবনের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণানা রয়েছে। এই ধারায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় সম্পর্কে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে প্রোপাগান্ডা ও মদদ দিলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বলতে, অনলাইন মাধ্যম, সোস্যাল মিডিয়া, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি মাধ্যমে প্রচারণাকে বোঝানো হয়েছে।

এছাড়া আইনের ১৫ ধারায় ডিজিটাল সাইবার সন্ত্রাসের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আইনটির এই ধারায় ডিজিটাল সাইবার সন্ত্রাস বলতে বাংলাদেশের অখণ্ডতার বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, অন্য কোনো দেশের অখণ্ডতার ওপর হুমকিসহ এ ধরনের কোনো অপরাধ যদি কেউ ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে সাধন করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ১৫ বছর কারাদণ্ড। পাশাপাশি এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড। সর্বনিম্ন দুই বছর কারাদণ্ড।

গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে কেউ কারো তথ্য, ছবি নিজের বলে চালালে এই আইনের মাধ্যমে তার শাস্তি নিশ্চিত হবে। সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

কেউ কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করে প্রতারণার হুমকি দিলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এক বছর কারাদণ্ড। আর কেউ প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর জেল। আর সর্বনিম্ন শাস্তি এক বছর জেল।

এই আইনে পর্নোগ্রাফির জন্য ১০ বছর কারাদাণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর সর্বনিম্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে দুই বছর কারাদণ্ড।

এছাড়া কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন দুই মাসের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এই আইনে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর আইসিটি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ধারা রহিত হয়ে যাবে। এই ধারাগুলো নতুন আইনে সন্নিবেশিত হবে।

নতুন আইনের আলোকে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠন করা হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডিজি।

আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১২টি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে পাঁচটি আইন। এই আইনগুলোর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- আবহাওয়া বিষয়ক আইন-২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ক্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৬ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন। আর একটি হচ্ছে প্যারিস চুক্তি রেটিফিকেশনের বিষয়ে অনুমোদন।

আরেকটি হচ্ছে দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের গাছ কাটার পর আরোপিত বিধি নিষেধ ২০২২ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৫ সাল থেকে সাত বছর বাড়ানো হয়েছে। এটি প্রস্তাব করা হয়েছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কিন্তু মন্ত্রিসভা ২০২২ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আর বাকি পাঁচটি ছিল মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত