টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের প্রধান টার্গেট

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের প্রধান টার্গেট। ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করার পরই দেশকে ভিন্ন কায়দায় পরিচালনা করা হচ্ছিল। মানুষকে মিথ্যা ইতিহাস শেখানো হচ্ছিল। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ সঠিক পথে আসে। তখনই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ পরিচালিত হওয়ার সুযোগ আসে। আর এরপরই আসে চূড়ান্ত আঘাত। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেৃতৃত্ব ধ্বংস করার জন্য সেইদিন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাকেসহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে শেষ করে দেয়ার জনই ২১ আগস্টকে বেছে নেয়া হয়। মৃত্যুকে ভয় করি না-উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেও কোটালীপাড়ায়ও আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বিশাল বোমা পুতে রাখা হয়েছিল। কেবল চা-য়ের দোকানদার তা দেখায় আমি তখন প্রাণে বেঁচে যাই।

সবাইকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, প্রথম তিনটা গ্রেনেড পর পর নিক্ষেপ করা হয়। একটু বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়, মনে হচ্ছিল যেন গ্রেনেড বৃষ্টি হচ্ছে। গ্রেনেড বিস্ফোরণ যেন আর থামছিলই না।

আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ২০০৪ সালের এই দিনে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে তখন বক্তৃতা করছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই দিনের সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন সন্ত্রাসবিরোধী বক্তৃতা করছিলাম তখন আমার পাশেই ছিলেন ঢাকার সাবেক মেয়র হানিফ ভাই। আমি দেখছিলাম তাঁর মাথায় এবং শরীরে বৃষ্টির মতো স্প্লিন্টার এসে পড়ছিল। এক পর্যায়ে আমি যখন গাড়িতে উঠি তখনও গ্রেনেডের সঙ্গে বৃষ্টির মতো গুলিও ছোঁড়া হচ্ছিল। আমাকে নিয়ে গাড়ি যখন আমার বাসায় আাসে তখন আমার গাড়ি বসে যায়। তার মানে আমার গাড়ির টায়ারগুলোও স্প্লিন্টার বিঁধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে তখন শুধু লাশ আর লাশ।

ওই দিন পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকম একটি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ আমাকে অবাক করেছে। পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার না করে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে উদ্ধার অভিযানে বাধা দেয়া হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে।

বিচারকাজকে বাধাগ্রস্ত করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন. সে দিনের সব আলামত সরিয়ে ফেলা হয় সঙ্গে সঙ্গে। আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্যোগে কিছু আলামত তখন রাখা হলেও পরে তা ধ্বংস করা হয়। আস্ত গ্রেনেড আলামত হিসাবে রাখার কথা থাকলেও তা ধ্বংস করা হয়। আলামতগুলো নষ্ট করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এতোগুলো গ্রেনেড আনা হলো কীভাবে-প্রশ্ন করে তিনি বলেন, সবকিছুই হয়েছে পুলিশের ছাত্রছায়ায়। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে- হামলার কোনো তদন্ত না করে উল্টো এই হামলার জন্য আমাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। বলা হয়েছে আমরাই নাকি এই সমাবেশে হামলা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিএনপির নেত্রী বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আমরা কি সে দিন সুইসাইট করার জন্য গিয়েছিলাম, যে আমাদের সমাবেশে আমরাই হামলা করবো।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমাদেরকে পার্লামেন্টে এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পর্যন্ত দেয়া হয়নি। তাছাড়া তদন্তের নামে জজমিয়া নাটক সাজানো হয়েছিল।

বিএনপির আমালে শুধু ২১ আগস্টই নয় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া থেকে শুরু করে আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো লোককেও হত্যা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর আমদেরকে পর্লামেন্টে শুধু কথা বলতেই বাধা দেয়নি তারা একটি নিন্দা প্রস্তাবও আনতে দেয়নি।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন আমাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা সামনে বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবেন না। আমাকে হত্যা করা হবে বলেই এমন কথা খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানসহ ২২ জনকে হত্যা করা হয় এবং বহু লোক আহত হয়। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে তখন গ্রেনেড হামলার আহতরা। তখন তিনি বিএনপিমনা ডাক্তারদের ‘অমানবিক’ আচরণের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি মনোভাবাপন্ন ডাক্তাররা তখন গেনেড হামলায় আহতরা চিকিৎসা পর্যন্ত করেননি। পিজিতে তো এই রোগীদের ঢুকতেই দেয়া হয়নি। আমরা এই বর্বরতা আর চাই না।’

মতামত