টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে: আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::  বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সকালে সুপ্রিমকোর্টে এক স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ২২ জন। আহত হন শতাধিক। এখনও যাদের অনেকে শরীরে শত শত স্প্লিন্টারের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে দিন পার করছেন।

প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় কানে আঘাত পান সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। এ জন্য দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।

একযুগ আগের এই হামলার বিচার শেষ হয়নি এখনও। এ জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা আছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই বিচার ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ আছে। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবার তদন্তের পর জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টুসহ ২২ আসামির বিচার শুরু হয়। আর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর অধিকতর তদন্ত শেষে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় আরও ৩০ জনকে। এদের মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ এই মামলার ২৪ আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। আর তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন মন্ত্রিত্ব নেই তখন এই মামলায় ৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছিল। এখন ২২৪ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। সে হিসাবে এই মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটা বলা যায় যে, এটি দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এবং রায় ঘোষণা হবে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘৫২ আসামির মধ্যে ৩৩ জনই গ্রেপ্তার বা জামিনে আছে। তাদের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরাও করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলায় পলাতক আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি এই চেষ্টা সহজ হবে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপির সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই সরকারের শেষ দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। এরপর জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি আর দেশে ফেরেননি। তার বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও দুর্নীতির একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। অর্থপাচার মামলায় হাইকোর্ট তাকে সাত বছরের কারাদণ্ডও দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্র নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সম্প্রতি সরকারি দলের নেতারা এই চক্রান্তে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে এই প্রসঙ্গটি কেন আসেনি- জানতে চাওয়া হয় আইনমন্ত্রীর কাছে।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ফৌজদারি আইনে কেউ মারা গেলে তার বিচার করা যায় না। যারা এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন তাদের নাম বের করা দরকার। হত্যায় অংশ নেয়া খুনিদের বিচার আমরা করেছি। এখন ইতিহাসের দায় মোচনের তাগিদে একটি কমিশন গঠন করে এই সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত