টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়া নদী দূষণ: বাজারের বর্জ্য যাচ্ছে ইছামতির পেটে !

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Ranguniaচট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: বছরের পর বছর সংস্কারের অভাব আর অব্যাহতভাবে বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্য হারাচ্ছে ইছামতি নদী। অবাধে বর্জ্য ফেলানোর কারণে ইছামতি নদী ভরাট হয়ে ছোট হয়ে আসছে। যখন তখন বাজারের পাশেই বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে দূর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে এসব জায়গা দিয়ে জন চলাচল মারাত্বক ভাবে বিষিয়ে উঠেছে। বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্যাথলজিসহ নানা স্থাপনা থেকে বর্জ্য ইছামতি নদীতে ফেলার কারণে নদী দূষণ হয়ে নদীতে নানা প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। ইছামতি নদী ভরাট হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে পাশ্ববর্তী রোয়াজারহাটের অলি-গলি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার রোয়াজারহাটের শত শত টন বর্জ্য ইছামতিতে অবাধে ফেলা হচ্ছে। এতে নাব্যতা হারিয়ে নদীটির যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোয়াজারহাট রাঙ্গুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বাজার। এটি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মধ্যে পড়লেও এতে আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন নেই। বর্জ্য ফেলার জন্য আগে কয়েকটি স্থানে সেনিটারির তৈরি রিং থাকলেও তাও এখন ভেঙ্গে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন যত্রতত্র ময়লা বাইরে জমা হতে থাকলেও এসব ময়লা পরিস্কারের কোন উদ্যোগ দীর্ঘদিন গ্রহণ করছে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে ময়লাসহ পুরো রোয়াজার হাট বাজারের যাবতীয় বর্জ্য রাতের আঁধারে ফেলা হয় ইছামতি নদীতে। প্রতিদিন অব্যাহতভাবে নদীতে বর্জ্য ফেলার ফলে ইছামতির পানি ভয়াবহ রকমের দূষণের শিকার হচ্ছে। মাছ হারাচ্ছে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল। দূষনে নদীর পানি দিন দিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে।

রোয়াজারহাটের হোটেল ব্যবসায়ী মো. রহিম জানান, হোটেলের ময়লা আবর্জনা ফেলানোর জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন না থাকায় বাধ্য হয়েই হোটেলের উচ্ছিষ্ট নদীতেই ফেলতে হয। নদী বাঁচানোর জন্য বাজারে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করলে আমরা ইছামতি নদীতে আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকবো।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার নদী দূষণ ও নাব্যতা হারানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই বিষয়টি আমরা দেখছি, আগামীতে যাতে নদীতে বর্জ্য ফেলা না হয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত