টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশের একমাত্র কর্মজীবী নারীদের ডরমেটরি চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: উদ্বোধনের প্রায় তিনবছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে কর্মজীবী নারীদের জন্য নির্মিত দেশের একমাত্র ডরমেটরি।

আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই খুলে দেওয়া চট্টগ্রামের প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিক বিনামূল্যে আবাসন সুবিধা পাবে।

নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সাড়ে ৩৬ কাঠা জায়গাজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডরমেটরি নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এদিকে সিডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, ডরমেটরি পুরোপুরি প্রস্তুত, এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তবে বিজিএমইএ বলছে, নির্মাণকাজ ও ভবন বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলেও ভবনের অভ্যন্তরীণ আসবাবপত্র ও সাজসজ্জার কাজ এখনো বাকি। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে মাসখানের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে শ্রমিকদের থাকার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহাদ্দারহাট এম এ হান্নান ফ্লাইওভার উদ্বোধন করতে এসে এই প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছিলেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালের মার্চে চট্টগ্রামের নারী শ্রমিকদের আবাসন সঙ্কট নিরসনে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সিডিএ এবং বিজিএমইএ যৌথভাবে ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এটি নারী শ্রমিকদের জন্য নেওয়া বাংলাদেশে প্রথম আবাসন প্রকল্প। সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সিডিএর নিজস্ব সাড়ে ৩৬ কাঠা জায়গায় নির্মিত ছয়তলাবিশিষ্ট এই ডরমেটরিতে পাঁচটি ভবন রয়েছে। এখানে মোট ২৪৪ টি কক্ষ রয়েছে। যেখানে মোট ৪ হাজার জন শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা হবে। ডরমেটরি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। ডরমেটরির প্রতিটি ভবনের নিচতলায় রাখা হয়েছে বিশ্রাম কক্ষ, টেলিভিশন কক্ষ ও অতিথিদের অপেক্ষা করার কক্ষ।

চট্টগ্রামে মোট সাড়ে সাতশ’ গার্মেন্টসে প্রায় চার লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শুরু করতেই ২০১২ সাল লেগে যায়। এরপর পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। যদিও ২০১২ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত শ্রমিকদের থাকার জন্য খুলে দেয়া যায়নি এই ডরমেটরি।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, দেশে প্রথমবারের মত নারী শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনের উদ্যোগে এই ডরমেটরি নির্মাণ করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে আমরা বিজিএমএইকে ডরমেটরির রেজিস্ট্রিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে ডরমেটরি বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন কেবল শ্রমিকদের উঠানোর আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। এখন বিজিএমইএ তাদের সুবিধাজনক সময়ে এসব ফ্ল্যাট শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করে দিতে পারেন।

বিজিএমইএ মতে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও ফার্নিশের (আসবাবপত্র ও ডেকোরেশন) কাজ বাকি। যে কারণে এখনি শ্রমিকদের সেখানে তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমদ মিন্টু বলেন, ডরমেটরির রুম বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে। তবে রুমগুলো বসবাস উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ভিতরে আসবাবপত্র ও ডেকোরেশনের কিছু কাজ বাকি থেকে গেছে। এখন ফার্নিশের কাজ শেষ হলেই শ্রমিকদের থাকার জন্য ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০১১ সালে এসব কক্ষ প্রতি বর্গফুট তিন হাজার টাকা মূল্যে মোট ১৮ টি পোশাক কারখানাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে বিজিএমইএ’র মধ্যস্থতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কক্ষ বরাদ্দের জন্য আবেদন করে। তাদের আবেদনের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মোট ১৮ টি প্রতিষ্ঠানকে কক্ষগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। তারা ইতোমধ্যেই সিডিএ’র সাথে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান কক্ষ বরাদ্দ নিয়েছে সেগুলো হলো- জিন্‌স ২০০০ লিমিটেড, এন এইচ টি ফ্যাশন লিমিটেড, প্রিয়াম গার্মেন্টস লিমিটেড, রিলায়েন্স ডেনিম ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, সেলিম এ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড, কটন টেক্সটাইল এ্যান্ড অ্যাপারেল লিমিটেড, ক্লিফ্‌টন কটন মিল্‌স লিমিটেড, রাউজার সোয়েটার লিমিটেড, আজম নিটিং লিমিটেড, কাট্টলী টেক্সটাইল লিমিটেড, মার্‌স স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড, ডেলটা ফ্যাশন লিমিটেড, পেনিনসুলা গার্মেন্টস লিমিটেড, আর টি ক্ল্যাসিক লিমিটেড, স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড, আর এস বি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড (প্রস্তাবিত) প্রভৃতি।

ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মো. নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পোশাক শ্রমিকদের জন্য দেশের ইতিহাসে এটি অনন্য সংযোজন। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে কোনো শ্রমিকের জন্যই আজ পর্যন্ত আবাসন প্রকল্প নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। বিজিএমইএ সেক্ষেত্রে পিপিপি’র ভিত্তিতে এগিয়ে এসেছে। মূলত চট্টগ্রামের ধারাবাহিকতায় ঢাকার আশুলিয়ায়ও অনুরুপ ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পোশাকশিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের মাত্র ১ শতাংশের আবাসন সমস্যা দূর হতে যাচ্ছে। যেটি চার লক্ষাধিক নারী পোশাককর্মীদের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে সরকার যদি আন্তরিক থাকে তবে আগামি কয়েক বছরের মধ্যেই নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত