টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফ পৌরসভায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আমান উল্লাহ আমান 
টেকনাফ প্রতিনিধি 

TEKNAF-PICচট্টগ্রাম, ১৮ আগস্ট (সিটিজি টাইমস): টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন অলি-গলি ও প্রধান সড়কের পাশে যত্রতত্র গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট অবশেষে উচ্ছেদ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।

১৮ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

টেকনাফ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাহেদ ইকবাল, পৌরসভার প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহম্মদ ও পৌর কাউন্সিলারবৃন্দ, টেকনাফ মডেল থানার এস আই সুবীর পালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

এ অভিযানে প্রায় দু’শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, সড়কের পাশে বসে ইট, বালি বিক্রিসহ সব কিছু উচ্ছেদ করা হয়। অবৈধ স্থাপনা দখল মুক্ত হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকর ও পথচারীরা।

এদিকে দীর্ঘকাল ধরে টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে রাস্তার দু-পাশে যত্রতত্র অবৈধ দখল ও দোকানপাট তৈরী করে যানজটের সৃষ্টি করে আসছিল এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসব দোকান ও অবৈধ স্থাপনা থেকে একটি মহল মাসিক ও দৈনিক মাসোহারা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠে আসছিল। অবশেষে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে একটি সুন্দর ও মডেল পৌরসভা গঠনে সহায়ক হবে। এতে পর্যটকসহ পথচারীদের চলাচল সুবিধা ভোগ করবে।

অপরদিকে পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট হাট বাজারের জায়গা নেই। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরী করে দিলে যানজট ও অবৈধ দখল থেকে পৌরবাসী মুক্তি পাবে বলে অভিমত প্রকাশ করে সচেতন মহল।

উল্লেখ, গত ২৮ জুলাই টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখালা সভায় পৌর এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জোর দাবি জানানো হয়েছিল। এর পর টেকনাফ উপজেলার আওতাধীন যে সমস্ত অবৈধ দখল ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে সেই সমস্ত দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে কঠোর সিধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা গত ৩ আগস্ট পৌর মেয়র হাজী মো: ইসলাম পৌর শহরে গড়ে উঠা অবৈধ দখল ও স্থাপনা গুলো আগামী ৭ আগস্ট বিকাল ৫ টার মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করে ঘোষনা দেয়। কিন্তু মাইকিং করে সতর্ক করার পরও অবৈধ দখলদাররা আগের অবস্থানে থেকে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে পৌর কর্তৃপক্ষ ১৮ আগস্ট সকাল ১১টায় এই অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।

এব্যাপারে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মো: ইসলাম জানান, পৌর শহরকে নতুন রুপে সাজাতে রাস্তার দুই পাশে যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা গুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। দীর্ঘ দিন সময় দেওয়ার পরেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে না নেওয়ায় অবশেষে আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছি। পুনরায় কেউ যদি আবারও সড়কের দু-পাশে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরী করলে সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত