টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে খুনঃ ‘চাকুরি ছাড়লে দেখে নেবে হুমকি দিয়েছিল হেলাল’

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১৭ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: ছেলে বলতো ‘মা অন্য গ্যারেজে আট হাজার টাকা করে বেতন দেবে বলছে, চলে যাব ?’ আমি বলতাম অন্যত্র যাওয়ার দরকার নেই, তুর মালিককে বলে আরো কিছু বেতন বাড়িয়ে নিতে পারিস কিনা দেখ। মালিক হেলালকে বেতন বৃদ্ধির কথা বলাতেই তাদের মাঝে বাক-বিতান্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বাজার কমিটি বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। চার হাজার টাকা করে বেতন নির্ধারণ করা হলেও কয়েক মাস পর থেকে আরো এক হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া কথা হয়। কিন্তু মাস শেষ হতেই বেতন নিয়ে রিপনের সাথে হেলালের শুরু হয় আবার মনমালিন্য। রিপন অন্যত্র চাকুরি ঠিক করেছে এমন খবর শুনে মালিক হেলাল আমার ঘরে এসে হুমকি দেয়। আমাকে বলে যায় ‘সে যদি আমার গ্যারেজ ছাড়া কারো গ্যারেজে কাজ করে তাকে (রিপনকে) দেখে নেব।’

এভাবে নিজের ছেলের গ্যারেজের মালিক হেলাল সম্পর্কে মন্তব্য করেন সুয়াবিলে নিহত রিপনের মা অঞ্জলি দেবী। হেলাল বারমাসিয়া চৌমহনী নোয়াপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রিপনের মা এখনো কাঁদছে ঘরের কোনে বসে। কথা হয় রিপনের বাবা গণেশ দে‘র সাথে। তিনি অকপটে বলেন, ‘আমার ছেলের একমাত্র শত্র“ ছিল হেলাল। সে আমার একমাত্র ছেলেকে খুন করেছে। তার ফাঁসি চাই।’

বৈদে্যুরহাট বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিপনের ব্যবহারে মুগ্ধ ছিল সবাই। তার কারণেই বহু লোক গ্যারেজে আসতো। তাই তাকে খুব আদর স্নহে করতেন মালিক হেলাল। এ হত্যাকান্ডের পর সবার মন্তব্য তার এ আদর øেহের রহস্য ছিল তার স্বার্থ।’

ঘটনার দিন হেলাল ও তার এক কর্মচারীকে আটক করে নিয়ে যায় ভূজপুর থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের সাথে হেলালের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। অপরজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ভূজপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহাববুুল আলম আকন্দ বলেন, হেলাল ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সে কোর্টে জবানবন্দিতে তা বলেছে। খুনের সাথে আরো যারা জড়িত ছিল তাদের নাম পরিচয়ও জানা গেছে । তবে, তাদের গ্রেফতার করার জন্য তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

উলে­খ্য, গত রোববার সকালে উপজেলা সুয়াবিল বারমাসিয়া বৈদ্যুরহাট সংলগ্ন এলাকায় রাতের আধাঁরে খুন হন রিপন দে (১৮)। সকালে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তিনি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন সুয়াবিল বারমাসিয়া উত্তর হিন্দু পাড়ার নোয়া গইজ্জের বাড়ীর কৃষক গণেশ দে’র একমাত্র ছেলে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত