টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রিভিওয়ে উত্তরায় আশিয়ান সিটির আবাসন প্রকল্প বৈধ ঘোষণা

ashisanচট্টগ্রাম, ১৬  আগস্ট (সিটিজি টাইমস):  রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় আশিয়ান সিটির আবাসন প্রকল্প বৈধ বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এর আগে এই প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল আদালত। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের (রিভিউ) ওপর শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।

বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। এই আদেশের ফলে ওই প্রকল্পে প্লট বিক্রিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি আশিয়ান সিটির প্রকল্প দুটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ। এই পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০১৫ সালে একটি আবেদন করেন আশিয়ান সিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ২০০৬ সালে উত্তরার উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় আশিয়ান সিটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পের জন্য যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি জমি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা ও অনুমোদন না নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ, নিজেরা করি ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর রিট করে।

রিট আবেদনে বলা হয়, আশিয়ান সিটি ৪৩ দশমিক ১১ একর জমির জন্য অনুমোদন নিয়েছে। কিন্তু ২৩০ দশমিক ৪৬ একর জমিতে কাজ করছে। যে জমি ভরাট করছে, তা প্লাবনভূমি।

প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আশিয়ান সিটি আবাসন প্রকল্পের মাটি ভরাট, বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্লট বিক্রি বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে রাজউকসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া আশিয়ান সিটির অবস্থানগত ছাড়পত্র, এর নবায়ন, রাজউকের অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হ্রাস করে পাঁচ লাখ টাকা করা নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশ স্থগিত করা হয়। রুলে ওই প্রকল্পকে পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র ও এর নবায়ন, মন্ত্রণালয় থেকে জরিমানা হ্রাস এবং রাজউকের দেওয়া অনুমোদন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

জলাশয় ভরাটের অভিযোগে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আশিয়ান সিটিকে করা অধিদপ্তরের ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কমিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করে। তবে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ তখন নো অর্ডার দেয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত