টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইতিহাস গড়লেন উসাইন বোল্ট

spচট্টগ্রাম, ১৫ আগস্ট (সিটিজি টাইমস): বেইজিং—লন্ডন—রিও! ভেন্যু বদলেছে, সময় বদলেছে, দর্শক বদলেছে। বদলায়নি ১০০ মিটারের সঙ্গে উসাইন বোল্টের সম্পর্ক। আগের দুবারের কীর্তিটাই রিও অলিম্পিকেও টেনে এনেছেন জ্যামাইকান বজ্রবিদ্যুৎ।

মহাকাব্যিক আরেকটি দৌড়ের পর নিজের শেষ অলিম্পিকেও ১০০ মিটারে সোনা জিতেছেন বোল্ট! হ্যাটট্রিক!

অবশ্য এবার আর কোনো রেকর্ড-টেকর্ড হয়নি। ১০০ মিটার দৌড়াতে বোল্টের সময় লেগেছে ৯.৮১ সেকেন্ড। রুপা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিন, তার সময় লেগেছে ৯.৮৯ সেকেন্ড। ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ কানাডার আন্দ্রে দে গ্র্যাসির।

দৌড়ের ‘স্টার্ট’বোল্টের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা নয়, এ তো এত দিনে সবারই জানা। আজ রিওতেও একই দৃশ্য দেখা গেল। শুরুতে বোল্টের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাটলিন।

শুধু কী এগোনো, প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত তো মনে হচ্ছিল অবশেষে তৃতীয়বারে এসে অলিম্পিকে বোল্টকে হারিয়ে দেবেন গ্যাটলিন। কিন্তু শুরুটা ভালো না হলেও, দৌড়ের শেষ ৫০ মিটারের গতিতে বোল্টের ধারে-কাছেও যে কেউ ঘেঁষতে পারবেন না, সেটিও তো জানা।

চিত্রনাট্যটা একই রইল এবারও। ৫০ মিটারের পর থেকেই শুরু হলো বজ্রবিদ্যুতের চমক। বড় বড় ‘স্ট্রাইড’ ফেলে শুরু করলেন এগোনো। ৬০-৬৫ মিটার পর্যন্তও সমানে-সমান ছিলেন গ্যাটলিন। কিন্তু এরপর আর পাত্তা পেলেন না ধরণির সবচেয়ে দ্রুততম মানবের কাছে।

পরিচিত চিত্রনাট্যের আরও একটা অংশ তো এখনো বাকি—ওই যে, বোল্টের শেষ ১০ মিটারের ভাবলেশহীন বালখিল্য উদ্‌যাপন! আজ শুরুতে যে একটু বেশিই পড়েছিলেন বলে উদ্‌যাপনটা বেইজিং অলিম্পিকের মতো অতটা সময় জুড়ে হয়নি।

তবে ঠিকই ফিনিশিং লাইন ছোঁয়ার আগে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বুক চাপড়ানো শুরু করে দিলেন আর ছয় দিন পরেই ৩০-এ পা দিতে যাওয়া জ্যামাইকান। হয়তো ঘোষণাটা এমন—‘দেখে নাও সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটকে, শেষবারের মতো অলিম্পিক রাঙাতে এসেছি!’

আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন এটিই হবে তার শেষ অলিম্পিক। তাতে একটা স্বপ্নও নিয়ে এসেছেন, ‘ট্রিপল ট্রিপল’। টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলে—তিনটি ইভেন্টেই সোনা জেতা।

অমরত্বকে গন্তব্য মেনে এগোনো সেই স্বপ্নের প্রথম সিঁড়িটা পেরোনো হয়ে গেছে বোল্টের।

মতামত