টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘এ রায়ে হিমাদ্রীর আত্মা শান্তি পাবে’

heচট্টগ্রাম, ১৪ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):   কুকুর লেলিয়ে দিয়ে হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাঁচ জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিমুর বাবা-মা। এ রায়ে হিমাদ্রীর আত্মা শান্তি পাবে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

রবিবার চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নূরুল ইসলাম অভিযুক্ত ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর হিমাদ্রীর মা গোপা মজুমদার ও বাবা প্রবীর মজুমদার মুঠোফোনে সন্তোষ প্রকাশের কথা জানান।

হিমাদ্রীর মা গোপা মজুমদার বলেন, আমি ন্যায় বিচার চেয়েছি। ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করেছি। যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। আমি সন্তুষ্ট। তবে আমার সন্তানকে তো আমি ফিরে পাইনি।

তিনি বলেন, কুকুর লেলিয়ে দিয়ে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড পৃথীবির কোথাও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এ রায়ে অন্তত আমার সন্তানের আত্মা শান্তি পাবে। সন্তানের আত্মাকে বলতে পারবো, বাবা তোমাকে ফিরিয়ে আনতে না পারলেও তোমার হত্যাকারীদের আমরা ফাঁসি দিতে পেড়েছি।

হিমাদ্রীর বাবা প্রবীর মজুমদার বলেন, রায় ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পরিবর্তন হয়েছে। নানাদিক থেকে নানা কথা শুনেছি। মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছি। এখন রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছি। মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছি। রায়ে হিমাদ্রীর আত্মা শান্তি পাবে।

একইভাবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি ও অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তীও।

তিনি বলেন, আমি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালতের কাছে প্রত্যেক আসামির ফাঁসি চেয়েছি। রায়ে অভিযুক্ত পাঁচ আসামিরই ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত। এমন নির্মম, জঘন্য ঘটনা যারা ঘটাতে পারে ফাঁসি ছাড়া তাদের আর কোনো উপযুক্ত শাস্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ফরহাদ ম্যানশন নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে হিমুকে নিমর্ম নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক। এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেয় তারা।

এতে গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ওই বছরের ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু জাহিদুল ইসলাম শাওন, শাহাদাৎ হোসাইন সাজু ও মাহাবুব আলী খান ড্যানি ।

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৮ অক্টোবর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ এসএম মজিবুর রহমান এ মামলায় ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চলতি বছরের ১৬ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এরপর দু‘বার রায়ের তারিখ পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ আজ রবিবার পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

আসামিদের মধ্যে মধ্যে শাহ সেলিম টিপু, মাহাবুব আলী ড্যানি ও শাহাদাৎ হোসাইন রাজু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর দুই আসামি রিয়াদ শুরু থেকে এবং শাওন জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত