টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশের জন্য নিজের সম্পদ দিয়ে দিয়েছিলেন আমার মা: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ০৮  আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: আওয়ামী লীগ কর্মীরা সব সময় ঠিক থাকলেও নেতারা মাঝে মাঝে বেতাল হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জন্য নিজের সম্পদ দিয়ে দিয়েছিলেন আমার মা। আমার মা একটি টাকাও খরচ করতেন না, জমিয়ে রাখতেন। পরে সেসব টাকা বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের দূরদর্শিতায় ভুমিকা উল্লেখে করে তিনি বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের দূরদর্শিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার খুলেছিল।

বাংলাদেশের মুক্তির প্রথম সনদ খ্যাত ছয় দফা টিকিয়ে রাখতে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা ঠিক থাকে। নেতারা সব সময় বেতাল হয়ে যান। ছোটবেলা থেকে এটা দেখে আসছি। ওই সময় ভালো ভালো নেতারা বলতেন ছয় দফা না আট দফা। কিন্তু মা বলতেন, ছয় দফাই বাঙালির মুক্তির সনদ। এখানেও বঙ্গমাতার দৃঢ় দেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পদে পদে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার বিষয়ে অন্তরালে থেকে কাজ করে গেছেন মা। কখনও তিনি সামনে আসেননি। আমার মা, আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের সবাই জাতির পিতাকে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, আইয়ুব খান যখন করাচিতে গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান করেন, সেখানে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বৈঠকে অংশ নিতে নিষেধ করেছিলেন বঙ্গমাতা। এ সময় তিনি মামলা তুলে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার সেই দূরদর্শী পরামর্শ পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতার দ্বার খুলে দিয়েছিল। ওইদিন সেই গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধু অংশ নিলে সব শেষ হয়ে যেত।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা কখনও বাবাকে পেছনে টেনে ধরেননি। সব সময় তিনি বাবাকে প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি সব সময় দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেছেন।

তিনি বলেন, মার সব সময় আত্মবিশ্বাস ও সাহস ছিল যে এ দেশ স্বাধীন হবেই। কখনও মাকে ভেঙে পড়তে দেখিনি। বিভিন্ন সময় বাবাকে করাচিতে যেতে হতো। কিন্তু আমার মা একদিনের জন্যও করাচিতে যাননি। বাবার সঙ্গে যেতেও চাননি। তিনি বলতেন, ওদের সঙ্গে থাকবো না, ওদের চেহারাও দেখবো না।

আজকের এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, জাতীয় মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা মমতাজ বেগম, সংসদ সদস্য রেবেকা মোমেন, সচিব নাসিমা বেগম প্রমুখ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত