টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাঁধে ভোগান্তিতে হালিশহরবাসী

চট্টগ্রাম, ০৭  আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার ১০ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিপর্যয় নেমে আসায় মহেশখালের অপরিকল্পিত বাঁধের অপসারণ চেয়েছে এলাকাবাসী।

রোববার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে হালিশহরের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ‘সচেতন নাগরিক সমাজের’ নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন।

‍নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব মো. হাবিব শরীফ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাসের জন্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী বাঁধ দিয়েছিল স্লুইসগেট নির্মাণের কথা বলে। উক্ত বাঁধের কারণে ৩৭ নম্বর হালিশহর মুনির নগর ও ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের ১০ লাখ মানুষের জীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত ওই বাঁধের কারণে জোয়ারের সময় দুই ওয়ার্ডের মানুষ এবং বৃষ্টির সময় আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষে জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের দিন আবহাওয়া শুষ্ক ও সুন্দর থাকার পরও বৃহত্তর হালিশহর ও আগ্রাবাদ এলাকার লাখো মুসল্লি ঈদগাহে জামাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন শুধু মহেশখালের বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায়। এ বাঁধের কারণে মহেশখাল আজ মশার উর্বর প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাঁধের কারণে উজানে জোয়ারভাটা না থাকায় পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নেই। ফলে মহেশখালের উত্তর অংশের সিংহভাগ ভরাট হয়ে গেছে। বদ্ধ পানির দুর্গন্ধ, কচুরিপানা আর নোংরা আবর্জনায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে থাকছে।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক মাস এলাকার মসজিদ, মন্দির, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন ও মহল্লা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও গণসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর বাঁধ কেটে দিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আলম, সহসভাপতি শাহনওয়াজ চৌধুরী, এসএম আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জহুর আহমদ কোম্পানি, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইলিয়াস, সমাজসেবক এজাহারুল হক, মো. শাহিন, শের আলী সওদাগর, মোরশেদ আলম প্রমুখ।

মো. হাবিব শরীফ বলেন, মহেশখাল বাঁধ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফ জামান বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোথাও খালের ওপর এ ধরনের বাঁধ দেওয়ার রেকর্ড নেই। এ বাঁধটি বিজ্ঞান ও পরিবেশ সম্মত নয়। খালটির পরিকল্পিত সংস্কারই জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র উপায়। আরএস খতিয়ানমূলে খালটিকে পুনরুদ্ধার করে উজানে, ভাটিতে পলি অপসারণ কর খালে জোয়ার ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৩-৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছিল বাঁধের কারণে সৃষ্ট পলি অপসারণ ও ড্রেজিং করবে। বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। ছয় মাসের মধ্যে স্লুইসগেট নির্মাণের কথা ছিল তা-ও করেনি। সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, মহেশখালে স্লুইসগেট দেওয়ার এখতিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের, বন্দরের নয়। এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তাহলে বন্দর অতিউৎসাহী হয়ে বাঁধটি দিয়েছিল কিসের এখতিয়ারে? কার স্বার্থে?

জোয়ার-ভাটার একটি খালের মাঝখানে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে নরক যন্ত্রণা সৃষ্টির দায়ভার বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিকল্পনাকারীদের নিতে হবে উল্লেখ করে মহেশখালকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার জন্যে প্রধানমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মতামত