টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ভরা মৌসুমেও দেখা নেই ইলিশেরঃ হতাশায় জেলেরা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৬  আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::   ইলিশের মৌসুম এলেই জমে উঠতো মিরসরাইয়ের হাট বাজার। উপজেলার উপকূলী সাহেরখালী, মুহুরী প্রজক্টের মোহনা, বগাচতর, মঘাদিয়া ঘাটে বেড়ে যেত কোলাহল। আর এবারের চিত্র একেবারে ভিন্ন। সেখানে নির্জীব নীরবতা। মাঝে মধ্যে কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও চড়া দাম হওয়ার কারণে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার অনেক বাইরে। মৎস্য বিভাগ বলছে নানামুখি পরিবেশগত প্রতিকূলতার জন্যই আগের মতো ইলিশের দেখা মিলছে না। দিন দিন কমে যেতে পারে। আবার বাড়লে তাও প্রাকৃতিকভাবে।

সাগরে ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশায় দিন পার করছেন এখানকার জেলেরা। প্রতিদিন মাছধরা ট্রলার, নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগরে গেলেও ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না তারা। জেলেদের কাছে দাদন দিয়ে পাইকাররাও মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। জেলে শ্রমিক থেকে শুরু করে আড়তদার সবাই হতাশ এখন। অনেক দরিদ্র জেলের ঘরে জ্বলছে না চুলাও।

গত শুক্রবার বড়দারোগাহাট বাজারে এক জেলে কিছু জাটকা সাইজের ইলিশ বিক্রি করতে এলে ক্রেতারা হুমড়ী খেয়ে পড়ে। কিন্তু তাও দাম আকাশচুম্বি। ছোট সাইজের কেজিতে ৪ টার ইলিশ দাম হাঁকছে ৬শত টাকা।

বড়দারোগাহাট বাজারের অপর মাছ বিক্রেতা সুমন জলদাস বলেন, শাহেরখালী এলাকার ৫ শতাধিক জেলেই ইলিশের অপেক্ষায়। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের শেষে এলাম আমরা। হিসাব অনুযায়ী ইলিশের এই ভরা মৌসুম। তবুও ইলিশ মাছের দেখা নেই।

চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের এক ইলিশ আমদানিকারক আড়তদার গোলাম কিবরিয়া বলেন, গত বছর এ সময়ে হাজার মণ মাছ মিলত। এখন কেবল এক-দেড়শ মণ মাছ আসে। ট্রলার থেকে তুলতে মণপ্রতি ৪৫ টাকা আর গাড়িতে তুলে দিতে ৪৫ টাকা করে পান। প্রতিদিন বাজারে এলে চা-নাশতা বাবদ ২০-৩০ টাকা চলে যায়। এর পর সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে এরই মধ্যে সমিতি থেকে ২৫ হাজার টাকা দেনা করেছেন। বয়স হয়েছে আর অন্য কাজ ভালো বোঝেন না। তাই পেশা বদলাতেও পারছেন না। ফলে এখানেই পড়ে আছেন। তিনি আরো জানান, এক যুগ ধরে ইলিশ আসা কমতে শুরু করেছে। অপর এক ব্যবসায়ী জানান গত এক সপ্তাহে সাগর থেকে মাত্র সাতটি ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। যাতে মাত্র ৫শ’ পিস ইলিশ মাছ পাওয়া গেছে। এতে তাদের যাতায়াত খরচও উঠেনি।

ইলিশের দেখা নেই বলে কষ্টের কথা জানালেন মিঠাছড়া বাজারের বরফ কলের শ্রমিক মো. রেজাউল করিম। এমন সময়ে প্রতিদিন ১০০ ক্যান বরফ ভাঙতেন তারা। এখন অন্য মাছের জন্য বরফ নিতে এলেও ইলিশের জন্য আসছে না কেউ।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরের এই অংশেরজলবায়ু পরিবর্তন, নদীতে পানি কমে আসা, সাগর মোহনায় চর জাগাসহ নানামুখি পরিবেশগত প্রতিকূলতার জন্যই আগের মতো ইলিশের দেখা যে মিলবে না। তিনি বলেন বিশেষ করে সাগরের হাতিয়া অংশে বিশাল চর সৃষ্টি হওয়ায় সাগরের গভীর পানির এই ইলিশের ঝাঁক চলে যাচ্ছে বরিশাল. ঝালকাঠি ও চাঁদপুরের দিকে।

এই রূপালী ইলিশ কি তাহলে এই জনপদ থেকে বিলীন হয়ে যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রাকৃতিক ভাবেই কিছু বছর পর সমুদ্র জলভাগ ও স্থলভাগের পট পরিবর্তন হয়। সেক্ষেত্রে আবার সুমৌসুমের অপেক্ষাই করতে হবে বলে তিনি জানান।

ইলিশ গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই মৌসুমে ইলিশ কম ধরা না পড়ায় বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলছে। এটি খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবস্থা নেবেন তারা। তিনি আরো জানান, ইলিশের মৌসুম এখন থেকে হলেও মূল মৌসুম এখনো রয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর জুড়ে সর্বশেষ ভরা মৌসুম। তবে এবার আগাম ইলিশের দেখা কম মিলছে বলে জেলেরা হতাশ। তবে নদীতে পানি বাড়লে মূল মৌসুমে এবার বড় সাইজের ইলিশের দেখা মিলবে বলে আশা করেন তিনি। আর তখন আনুপাতিক হারে ছোট ইলিশের পরিবর্তে বড় ইলিশই বেশি পাবার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান।

মতামত