টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আর্টিজানে হামলায় হাসনাতের সম্পৃক্ততার ‘প্রমাণ’ আদালতে

hasnatচট্টগ্রাম, ০৪  আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের সঙ্গে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত আর করিমের সম্পৃক্ততার তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছে পুলিশ। বাহিনীটি জানায়, হামলাকারীরা ওই রেস্টুরেন্ট থেকে যেসব ছবি পাঠিয়েছিল সেগুলো পাঠানো হয় হাসনাত করিমের মোবাইল ফোন থেকে।

এই ছবি পাঠানে একটি বিশেষ অ্যাপ ডরশৎ ডাউনলোড করেন হাসনাত করিম। পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা আর্টিজানে ঢুকে রাত আটটা ৪৪ মিনিটে। আর হাসনাত আটটা ৫৭ মিনিটে ওই মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করেন।

এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলেই হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিফ খানকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ। দুই জনকেই ১০ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে বিচারক নুরুন্নাহার ইয়াছমিন আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

ঢাকা মহানগর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-পরিদশক (এসআই) হুমায়ুন কবির এই রিমান্ড আবেদন করেন। এতে বলা হয়, হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের সঙ্গে দুই আসামির সখ্য ছিল। হাসানাত করিম নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর তাহমিদ তার সহযোগী ছিলেন।

হাসনাত করিমের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরনো। নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০১২ সালে তাকে বহিষ্কার করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। এরপর তিনি বিদেশে চলে যান।

১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের মধ্যে নিবরাস ইসলাম হাসনাত করিমের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। আর হামলাকারীরা ২০ জনকে হত্যা করলেও হাসনাত করিমের পরিবারের কোনো সদস্যকে কিছু বলেনি। বরং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেছে। আর তাহমিদ এই হামলার আগের দিন বাংলাদেশে এসেছিলেন।

আর্টিজান হামলার পর এই দুইজনকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। তবে পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে গুলশানের আড়ং এর সামনে থেকে হাসানাতকে আটক করা হয়েছে। আর তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রাত পৌনে আটটায় তাহমিদকে ধরা হয় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লক থেকে।

আদালতে হাসানাতের পক্ষে জামিন আবেদন করে শুনানি করেন সানোয়ার হোসেন সামাজদার। তিনি বলেন, তার মক্কেল সেদিন ঘটনাক্রমে হলি আর্টিজানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে কেউ জঙ্গি হামলা করতে যাবে না।’

আইনজীবীর দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে ৩২ দিন পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন হাসানাত। তিনি জড়িত থাকলে এতোদিনে তথ্য উদ্ঘাটন হতো এবং তাকে ওই ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতো।

তাহমিদের আইনজীবী মতিউর রহমানও বলেন, ঘটনাক্রমে তার মক্কেলও ওইদিন সেখানে গিয়েছিলেন। কানাডায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল হেলথের ছাত্র তাহমিদ একজন সংস্কৃতিমানা এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন বলেও দাবি করেন তার আইনজীবী।

হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ

আর্টিজানে হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বৃহস্পতিবারও তিন জন আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগেও এই মামলায় ছয় জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন, হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর কর্মী আল-আমিন চৌধুরী সিজান, মিরাজ হোসেন, রাসেল মাসুদ এবং মেট্রোরেল প্রকল্পের ড্রাইভার বাসেদ সরদার, ওই রেস্তোরাঁয় খেতে আসা ভারতীয় নাগরিক সত্য প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠানের বাবুর্চি মো. শাহিন।

এর আগে এই ঘটনায় ৫৪ ধারায় মিরপুর এলাকার আরিফাবাদ হাউজিংয়ের তত্ত্বাবধায়ক দাউদ পাটোয়ারী, জঙ্গিদের বাড়ী ভাড়া দেওয়া বাড়ীর মালিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য গিয়াস উদ্দিন আহসান, জঙ্গিদের ভাড়া করা বাড়ীর ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান তুহিন ও রাজধানীর শেওড়া পাড়ার জঙ্গিদের ভাড়া বাড়ীর মালিক মো. নুরুল ইসলামকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আর্টিজান হামলার ঘটনায় গত ৪ জুলাই গুলশান থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত আসামি হিসেবে কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ১ জুলাই এই হামলার পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের অভিযান অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হন সন্দেহভাজন পাঁচ জঙ্গি। এরা হলেন, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও সফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল।-ঢাকাটাইমস

মতামত