টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে র‍্যাম হচ্ছে; জনমনে নতুন শঙ্কা

চট্টগ্রাম, ০৪ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাটের এক কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত নির্মিত বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে কালুরঘাট সেতুর দিকে র‍্যাম নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নতুন করে ফ্লাইওভার বর্ধিতকরণের সংযুক্ত নকশা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার যে যে উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল, তার ১০ শতাংশও কার্যকর না হওয়ায় কালুরঘাট সেতুর দিকে র‍্যাম নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। শিগগির এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সিডিএর অর্থায়নে ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করা হয় ২০১৩ সালে। শুধু শাহ আমানত সেতুমুখী দূরপাল্লার গাড়ির জন্য বর্তমানে ওই ফ্লাইওভার ব্যবহার হয়। ওই রুটের গাড়ির মধ্যে শুধু ঢাকা-কক্সাবাজার রুটের গাড়ি ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচল করে।

অন্যদিকে ফ্লাইওভারের কারণে মূল রাস্তা সংকীর্ণ এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় চান্দগাঁওয়ের পেপসি থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত সড়কে যানজট প্রকটতর হচ্ছে। ফ্লাইওভারটি মূলত সড়কের ফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ২০০৮ সালের ওয়াই আকৃতির ফ্লাইওভারের নকশায় ফিরে যেতে হচ্ছে বলে জানালেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সিডিএ সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে ‘ওয়াই’ আকৃতির বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার। ইতোমধ্যে নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় শিগগিরই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০০৮ সালের নকশায় ওই ফ্লাইওভারে ওয়াই আকৃতি থাকলেও তা সংশোধন করে শুধু শাহ আমানত সেতুর দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল ও কালুরঘাট মুখী গাড়িগুলো নিচ দিয়ে যাওয়া-আসা করে। এতে বহদ্দারহাট মোড়ে যানজটের কমার পরিবর্তে অনেক বেড়ে গেছে। তাই নতুন করে ফ্লাইওভারের সঙ্গে র‍্যাম যুক্ত হচ্ছে। তবে র‍্যাম সংযুক্তিতে অর্থায়নের বিষয়ে কিছু জানায়নি সিডিএ।

র‍্যামের চূড়ান্ত নকশার কথা জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, বিদ্যমান বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের সঙ্গে একটি র‍্যাম টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই এর কাজ শেষ করা হবে। এর কাজ সম্পন্ন হলে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালমুখী গাড়িগুলো ফ্লাইওভারে উঠা-নামার সুযোগ পাবে।

নকশা চূড়ান্ত হলেও কাজ শুরু না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষার কারণে একটু বিলম্ব করতে হচ্ছে। তবে এটি নির্মাণে তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না।

নগর উন্নয়নে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ১০ শতাংশও ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা জানান, বিদ্যমান ফ্লাইওভারের সঙ্গে নতুন র‍্যাম সংযুক্ত হলে এর কার্যকরিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। র‍্যাম তৈরি হলে ফ্লাইওভারের উপর জংশন হবে কি না- তা নিয়েও ইতোমধ্যে নানা মত-অভিমতের প্রকাশ পাচ্ছে।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সদস্য ও বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্টেশন এক্সপার্ট প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, এগুলোতে কোনো লাভ পাওয়া যাবে না। বহদ্দারহাট এলাকায় কী পরিমাণ গাড়ি রয়েছে, কোন পথ কী পরিমাণ গাড়ি যাওয়া-আসা করে তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। কিন্তু তা না করেই র‍্যাম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএ।-অর্থসূচক

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত