টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’বাস্তবায়নে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ চসিকের চ্যালেঞ্জ

ctgচট্টগ্রাম, ০৩ আগস্ট (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ঘোষিত ভিশন ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’বাস্তবায়নে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে এ কার্যক্রমকে চালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির।

চ্যালেঞ্জের অংশ হিসেবে সোমবার নগরীর বারিক মিঞা স্কুল প্রাঙ্গণে ৭ ওয়ার্ডে শতভাগ আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ডোর টু ডোর কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো ওয়ার্ড এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে নগরীর ময়লা-আবর্জনা রাতে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন চসিক। ফলে নগরবাসী সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলে। কর্পোরেশনের সেবকরা সেই আবর্জনা রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে অপসারণ করে। এ কর্মসূচির ফলে নগরীর আবর্জনা পরিষ্কারে বিস্ময়কর সফলতা দেখা যায়। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাস না যেতেই আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে চসিক। দুর্গন্ধময় হতে থাকে পুরো শহর। এ অবস্থায় আবারো নড়েচড়ে বসে চসিক। সর্বশেষ ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, ক্লিন সিটির কার্যক্রম শুরুর পর যেভাবে শহর পরিষ্কার ছিল তা ধরে রাখা যায়নি। তবে এবারের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা সিটি এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এজন্য লোকবল নিয়োগ ও বিন সংগ্রহ চলছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী জাহিদ আবছার চৌধুরী বলেন, ক্লিন সিটি কার্যক্রম আমের মুকুল আসার মতো ছড়িয়ে ছিল। তবে সেটাকে ধরে রাখা যায়নি। শহর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার ক্ষেত্রে নগরবাসীদেরও সচেতন হওয়া উচিত।

চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ডোর টু ডোর কার্যক্রমের জন্য রিকশা-ভ্যান ও দুই লাখ বিন বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এ কার্যক্রমে নগরবাসীকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ পরিশোধ করতে হবে না।

কর্পোরেশন সূত্র জানায়, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ টন আবর্জনার সৃষ্টি হয়। এগুলো ফেলার জন্য হালিশহরের আনন্দবাজার ও চান্দগাঁওয়ে চসিকের দুটি ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। চসিকের মোট ১৮৭৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসব আবর্জনা অপসারণ করে থাকেন। তবে নতুনভাবে চালু হতে যাওয়া ডোর টু ডোর কার্যক্রমে আরো প্রায় দুই হাজার সেবকের প্রয়োজন।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, ডোর টু ডোর কার্যক্রম শুরুর পর ক্রমান্বয়ে ডাস্টবিন তুলে নেয়া হবে। সেবকরা বর্জ্য আহরণ করে নির্ধারিত জায়গায় একত্রিত করবে। পরে সেগুলো ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া হবে।

মতামত