টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জঙ্গি ছালাউলসহ আটক তিনজনকে থানায় সোপর্দ

এগারো জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

teknafচট্টগ্রাম, ০১ আগস্ট (সিটিজি টাইমস):: টেকনাফে গোপন বৈঠককালে উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া হতে যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেন (আরএসও ) নেতা জঙ্গি ছালাউলসহ ৩ জনকে অবশেষে টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। এসময় আটক সৌদি নাগরিক আবু সালে আহমেদ আল গাম্বীকে তাদের দূতাবাসের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়- ৩১ জুলাই রবিবার রাত পৌনে ১২টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিযনের হাবিলদার বাবুল মিয়া বাদী হয়ে আটক ৩জন ও পলাতক ৮জনসহ মোট ১১জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর জঙ্গি ছালাউল ইসলাম, মৌঃ সৈয়দ করিম ও মৌঃ ইব্রাহীমকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে। তবে এসময় আটক অপর সৌদি নাগরিক আবু সালে আহমেদ আল গাম্বীকে থানায় সোর্পদ না করে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দূতাবাসে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য গত ৩০ জুলাই দুপুরে টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার শামলাপুরের নতুন পাড়ায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাহিদ ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশ-বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক সৌদি নাগরিক আহমেদ আল সালেহ আল বাদি,আরএসও নেতা হাফেজ ছালাহুল ইসলাম,মৌলভী সৈয়দ করিম ও টাঙ্গাইলের মৌলভী ইব্রাহীমকে আটক করে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরে নেওয়া হয়। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় হস্তান্তর হয়।

জঙ্গী ছালাউল কক্সবাজারের লিংক রোডস্থ ইমাম মুসলিম (রাঃ) ইসলামিক সেন্টারের মহা-পরিচালক। এ আরএসও নেতা জঙ্গি ছালাউল ইসলাম দেশ-বিদেশে সফর করে কোটি কোটি টাকা এনে কক্সবাজারের রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জঙ্গী কর্মকান্ডে অর্থ যোগান দাতা হিসেবে আলোচিত হয়ে উঠেন। কয়েকবার বিভিন্ন অভিযোগে আটক হলেও জামিনে বের হয়ে আসেন। জঙ্গী ছালাউল মিয়ানমার থেকে এসে সরাসরি আরএসও’র কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়েন। পরে টেকনাফের হ্নীলা পানখালী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং কক্সবাজার কলেজের পেছনে কয়েক একর জমি দখলে নিয়ে বাড়ী ও মাদ্রাসা নির্মান করেন।

টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, আটককৃতদের সোমবার সকাল ১১ টার দিকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তিনি প্রতিজনকে সাত দিনের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান।

এদিকে বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে জনৈক সৌদি দানবীর বাহারছড়া এলাকায় একটি হেফজখানা ও এক উন্নতমানের ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দেওয়ায় দাতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক চলছিল বলে দাবী করছেন।

অনুমতি বিহীন এই বৈঠকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে উপরোক্তদের আটক করে।

এসময় এক তুর্কী নাগরিকসহ ৪/৫জন লোক পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত