টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ার নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ৩১ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ উপকূলীয় এলাকায় যত উন্নয়ন প্রকল্প করা হচ্ছে সেগুলোর চারপাশে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপকূলীয় এলাকায় কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টিতে সবগুলো মন্ত্রণালয়কেই একযোগে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর খামারবাড়ীতে জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের তিনটি বিভাগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সরকারপ্রধান। সামাজিক বনায়নে উপকারভোগী দুই জনের হাতেও চেক তুলে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়েছে। জাতি হিসেবে সবার দায়িত্ব পরিবেশ রক্ষা করা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। সংরক্ষণ করতে হবে। বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে।’

বৃক্ষরোপনের নানা পদক্ষেপের সুফল মিলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বনায়নে দৃষ্টি দিয়েছি, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলছি। আর সাত বছরে বনভূমি নয় শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ হয়েছে। তবে আমাদেরকে বসে থাকলে চলবে না। দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশে বনভূমি থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে সেগুলোর আশেপাশে, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল এলাকাতেও সমুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।…দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে বনায়ন, সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ বন তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নারকেল বাগান তৈরি করতে হবে। একদিকে এটি অর্থকরী ফসল, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত। আমরা কারো অপেক্ষায় নেই। নিজেরাই তহবিল গঠন করে কাজ শুরু করেছি। এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি বলেই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন কমিটির সদস্যপদ লাভ করেছি আমরা। কারো দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড করেছি। বাজেট থেকে তহবিল দিয়ে তিন হাজার কোটি টাকায় ১৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর সুফলও পাচ্ছে মানুষ।’ অবশ্য এখন বিদেশি কিছু অর্থ আসছে বলে জানান তিনি।

একটা গাছ কাটলে তিনটা রোপনের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে সব কিছু অর্জন করা সম্ভব। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এখন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আর বৃক্ষনিধন বন্ধ করতে হবে। একটা গাছ কাটলে তিনটা গাছ রোপন করতে হবে, পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। নদী ভরাট, আর কৃষিতে কীটনাশক পরিবার করতে হবে, রাসায়নিক সার কমাতে হবে।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, গড়াই নদী পুনঃখনন করায় সুন্দরবন এলাকায় বাঘের ‘ব্রিডিং পয়েন্ট’ বাড়ছে। এসব এলাকায় বনজ সম্পদ আহরণ সীমিত করা হয়েছে। বনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ট্যানারি মালিকদের ‘ছলছুতো’র সমালোচনা

ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, তুরাগ নদী ও বালু নদ দূষণ মূক্ত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য হাজারীবাগ ট্যানারিগুলো সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানাস্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে সেখানে বর্জ্য দূষণমুক্ত করার ব্যবস্থা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা কারখানা স্থানান্তরে অযথা দেরি করছে। বারবার বলার পর ছলছুতো করে দেরি করছে। কেন করছে জানি না। তবে তাদেরকে যেতেই হবে।’

১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নতুন আবাসিক এলাকায় জলাধার করারও নির্দেশ দেন প্রধা্নমন্ত্রী। বলেন, বৃষ্টির পানি এসব জলাধারে সংরক্ষণ হবে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সরকারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষতি লাঘবে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা নদী ড্রেজিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এতে করে নদীগুলো আগের চেয়ে বেশি পানি ধারণ করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা যেমন ক্ষতি করে উপকারও করে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনঃভরাট করে, ভূমিও পুনর্গঠন হয়।

অন্যান্যদের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃক্ষ রোপন একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এটি এখন দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেছে। গ্রাম এলাকা ও মফস্বলে মানুষ বাজার করতে এসে মানুষ এক-দুইটা গাছ নিয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর পৃথিবীবে বসবাসের অযোগ্য করে ফেলেছি। এ থেকে উদ্ধার পেতে হতাশ না হয়ে জয় করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।’

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, ‘কেবল মধ্যম আয়ের দেশ নয়, আমরা একটি দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধ পরিকর।’

পুরস্কার প্রদান

অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন্যপ্রাণী রক্ষায় তিনটি বিভাগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

বন ও বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার ২০১৬ এর তিনটি শাখায় বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নূরজাহান সরকার এবং নওগাঁর মহাদেবপুরের জীববৈচিত্র্য বন ও বণ্যপ্রাণী ও নদী সংরক্ষণ কমিটিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও দুই ভরি স্বর্ণের সমপরিমাণ টাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাক কারখানা প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেড ও ময়মনসিংহের বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে দেয়া হয় জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৬।

বৃক্ষরোপনে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৫ পেয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। তারা সবাই পান ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে।

এ ছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী হিসেবে ইসাহাক আলী ও হামিদা বেগমের হাতে ছয় লাখ টাকারও বেশি চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত