টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের ইপিজেডে নিরাপত্তা জোরদার

epzdচট্টগ্রাম,৩১ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিদেশিদের উপর হামলার আশংকায় চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কতৃপক্ষ (বেপজা)। এখন থেকে অনুমোদন ছাড়া কেউই ইপিজেড এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের সরকারি সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড এবং আনোয়ারার বেসরকারি কোরিয়ান ইপিজেডে এক হাজার ৩০৬ জন বিদেশি কর্মরত আছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ৪৭২ জন, কর্ণফুলী ইপিজেডে ৭৭২ জন এবং কোরিয়ান ইপিজেডে ৬৩ জন। এই বিদেশিদের নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্মস্থলের পাশাপাশি চলাচল এবং আবাসস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সরকারি ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড এবং কোরিয়ান ইপিজেডের বিদেশিদের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, র‍্যাব ও শিল্প পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে বেপজা কতৃপক্ষ। বাড়তি সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বেপজা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং জোন ও বিদেশিদের আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী স্থাপনের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইপিজেড ও বিদেশিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সিইপিজেড মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, চট্টগ্রামে ইপিজেডে প্রায় দুই লাখ শ্রমজীবী কর্মরত। এর বাইরে যেন অন্য কেউ ইপিজেড এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলাকারীরা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইপিজেডে নিরাপত্তামূলক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার; প্রতিটি কারখানার প্রবেশদ্বারে ধাতব অনুসন্ধানকারী যন্ত্র স্থাপন অর্থাৎ আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, গাড়ি চেকিং ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিয়মিতভাবে শ্রমিকদের আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে। মহিলাদের তল্লাশির সুবিধার্থে নারী নিরাপত্তাকর্মী/মহিলা আনসার নিয়োগ করা হয়েছে।

জোন ও ফ্যাক্টরি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার পর্যবেক্ষণ, বেপজার নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল, প্রয়োজনে ব্যাগ ও শারীরিক তল্লাশি এবং অননুমোদিত ব্যক্তিকে ইপিজেডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

খুরশীদ আলম জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করবে ইপিজেড ও বেপজা। ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবাসন পরিকল্পনা এবং নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ইপিজেডে প্রবেশের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ের পৃথক ২টি সভায় ইপিজেডে প্রবেশের সময় যানবাহন তল্লাশি, আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার, বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত যাতায়াতের রাস্তায় ও আবাসিক এলাকায় স্থানীয় পুলিশের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং কর্মরত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রয়োজনে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইপিজেডে নাশকতার হুমকি পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক বলেন, গুলশান হামলার পর থেকেই আমরা অনেক সতর্ক।

শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী, সুগন্ধা, হালিশহর এলাকার জি, কে এবং এল ব্লকসহ নগরীর অন্যান্য জায়গায় যেখানে বিদেশিরা বাস করেন- সেসব জায়গাতে টহল জোরদার হয়েছে। এছাড়া বিদেশি কিংবা তাদের নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত শনিবার থেকে ইপিজেড গেটে মহিলা পুলিশ নিয়োজিত আছে। ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকদের প্রবেশের সময় স্ক্যান করা হচ্ছে।

বিদেশি ও ইপিজেডের নিরাপত্তায় বেপজার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সিইপিজেডের যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডেনিম প্লাস (বিডি) লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ইপিজেড নিরাপত্তার জন্য বেপজা ও শিল্প পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপে আমরা সন্তুষ্ট। সাময়িক অসুবিধা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সবারই সেটা মেনে নেওয়া উচিত।

মতামত