টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মৎস্য চাষে সফলতার মুখ দেখছেন রাঙ্গুনিয়ার খোরশেদ

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-fish-pic-copyচট্টগ্রাম, ২৯ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মৎস্য চাষে সফলতার মুখ দেখছেন খোরশেদ আলম। ২০০৬ সালে নিজের ৪টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। লাভ হওয়ায় আরো ২টি পুকুর লিজ নিয়ে ৬টি মৎস্য খামারে ৪ লাখ ৬ হাজার টাকার রেনু চাষ করেছেন। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স শেষ করে দীর্ঘদিন চাকুরীর জন্য হন্য হয়ে ঘুরছিলেন। চাকুরি না পেয়ে অভিশপ্ত বেকার জীবন থেকে মুক্ত হতে নিজ অর্থ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে তিনি মৎস্য চাষে ঝুঁকে পড়েন। এখন তার মৎস্য খামারে ২০ জন বেকার যুবক চাকুরি করছেন। মৎস্য চাষের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষ, ফলজ বাগান ও বনজ বাগান করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ঘুচিয়েছেন তাদের বেকারত্বও সফলতা মুখ দেখছেন নিজেই। বর্তমানে তার মৎস্য খামারে রুই, কাতলা, পুঁটি, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, গলদা চিংড়িসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছের রেনু বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে ঘেরে চাষ করছেন। তিন মাস পরিচর্যা করে এক থেকে দুই ইঞ্চি পোনা ২শ টাকা এবং চার ইঞ্চি থেকে ছয় ইঞ্চি পোনা ৫শ টাকায় বিক্রি করেন। তার এই সফলতা দেখে আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকরা মৎস্য চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে পড়েছে। শুধু মৎস্য চাষে নয় সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এলাকার ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় তার হ্যাচারী থেকে পোনা সংগ্রহ করে অর্ধ শত বেকার যুবক মৎস্য চাষ করে জীবিকা অর্জন করছেন। বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া রাউজানসহ বিভিন্ন উপজেলার ২৫ টি মৎস্য প্রকল্পে মাছ চাষ করছেন। উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট মির্জা বাড়ির সিরাজুল হকের পুত্র খোরশেদ স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করছেন। তার মৎস্য চাষে সফলতা দেখে সরকার তাকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন। ২৪ জুলাই মৎস্য সপ্তাহে তিনি সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি’র কাছ থেকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার পুরস্কার অর্জন করেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারী পুরস্কার, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের শ্রেষ্ঠ আতœকর্মী পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ রেনু উৎপাদনকারীসহ আলাদাভাবে শিং, মাগুর, মনোসেক্স তেলাপিয়া, কার্প জাতীয় মাছ চাষে উপজেলা শ্রেষ্ঠ চাষীর পুরস্কার লাভ করেন। মৎস্য চাষে তার আগ্রহ দেখে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার সাউথ ইষ্ট আগ্রাবাদ শাখা থেকে সহজ শর্ত ও অল্প সুদে অর্ধ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার জন্য সহায়তা করেন। ঋন পেয়ে সে পুরো উদ্যমে ব্যাপক ভাবে মৎস্য ও কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।

মৎস্য খামারী খোরশেদ আলম বলেন, ‘পোনা বিক্রি করে অধিক লাভবান হয়েছি। মাছ চাষ করে সংসার চালিয়ে বেশ ভালোই চলছে। বেকার যুবকদের চাকুরির পিছনে না ঘুরে মৎস্য চাষে প্রশিক্ষন নিয়ে মাছ চাষ করে ভাগ্যের চাকা বদলে দেয়া সম্ভব হবে। পুকুর না থাকলেও লিজ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী মাছ ,মুরগী ও সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া অতীব সহজ।

ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে ব্যাপক আকারে মৎস্য হ্যাচারী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

হোছনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা মো. সেকান্দর জানান, সফল মৎস্য চাষী খোরশেদের দেখাদেখিতে এলাকার অনেক বেকার যুবক মৎস্য চাষে ঝুঁকেছেন। তার মৎস্য চাষে সফলতা দেখে আরো বেকার যুবকরা উদ্বুদ্ধ হবেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, সফল মৎস্য খামারী খোরশেদ মৎস্য চাষে মৎস্য অফিস থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছেন। মাছ চাষে বিভিন্ন সময়ে তিনি জাতীয় ও উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, রাঙ্গুনিয়ায় মৎস্য চাষ করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন খোরশেদ। মৎস্য চাষে সফলতা অর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। বেকার যুবকরা তার মতো মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত