টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কল্যাণপুরে নিহত রায়হান ‘নিবরাসদের প্রশিক্ষক’ ছিলেন

চট্টগ্রাম, ২৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত ‘জঙ্গি’দের আরও একজনের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তার নাম রায়হান কবির। পুলিশ জানিয়েছে হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম রায়হানের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, রায়হানের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইতাকুমারি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে। এক বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত হন।

কল্যাণপুর অভিযানের পরদিন গত বুধবার রাতে নিহত নয়জনের মধ্যে সাত জনের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ। তবে দুজনের নাম-পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। তবে পরদিন সকালে পুলিশ রায়হানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে যারা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করেছিলে রায়হানসহ দুইজন তাদের প্রশিক্ষণ দিতেন। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার একটি চরে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গুলশান হামলায় অংশ নেয়া জঙ্গিরা হলেন- নিবরাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর সামীহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম। এদের তিনজন রাজধানীর উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং শেষের দুই জন বগুড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তারা দুজনই নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান।

তিনি আরও জানান, রায়হান কবীর আশুলিয়ার বাড়ুইপাড়ায় পুলিশ হত্যা মামলারও আসামি। আগে পুলিশের খাতায় তার নাম ছিল তারেক। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে তার নাম রায়হান কবির।

আমাদের রংপুর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়হানের পরিবার কৃষিকাজ করে। কল্যাণপুরে তিনি নিহত হয়েছেন-এই খবর প্রকাশের পর তার বাবা-মা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।

তবে স্থানীয়রা জানান, তিন বছর আগে রায়হান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি বাড়ি আসেননি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না এলাকাবাসী তা জানাতে পারেননি।

গত সোমবার রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে বিশেষ বাহিনী সোয়াতের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নয় জঙ্গিকে হত্যা করে। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক।

মতামত