টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সন্ধ্যা নামতেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মাদকের হাট

kabarচট্টগ্রাম, ২৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: মনিকা বেগম মনি (২৫)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপির) তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে তিনি বাংলা মদ (ছোলাই মদ), গাঁজা বিক্রি করতেন। এখন চট্টগ্রামে ইয়াবা, হেরোইন পাচারের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী থানা এলাকার মাদক বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে মনি প্রকাশ মনিকা বর্তমানে প্রচুর টাকার মালিক। প্রায় সময় গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে আবার জড়িয়ে পড়েন সর্বনাশা মাদক ব্যবসায়। মাদক ব্যবসায়ী স্বামী বাহার উদ্দিন রকির হাত ধরে মাদক ব্যবসায় আসেন ২০১০ সালের দিকে। তার সাথে রয়েছে প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সখ্য। নগরীর বায়েজিদ থানার আরফিন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান ঘিরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসে মনিকার মাদকের হাট। যেখানে মাদকসেবী সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত শ্রমিক এবং স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলে আনাগোনা।

গত ২০ জুলাই রাতে নগরীর বায়েজিদ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্র্যবসহ মনিকা বেগমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি পুলিশ হেফাজতে জানিয়েছেন মাদক ব্যবসায় তাদের পরিবারের লোকজন জড়িত থাকার নানা চাঞ্চল্য তথ্য। এর মধ্যে তার বোন মুক্তা, সেলিনা, ববিতা ও ভাই মানিক কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করেন বলে স্বীকার করেন।

বায়েজিদ থানার ওসি মহসীন জানান, আরেফিন নগরের একটি বাড়ি থেকে প্রথমে মনিকাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে ১ কেজি এবং পেছনে মাটির ভেতরে ড্রামে থাকা সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য আইনে ওই নারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ জানান, মনিকার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন আছে। এ ছাড়া তার আপন তিন বোন মুক্তা, সেলিমা, ববিতা ও তাদের ভাই মানিকের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বের হয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় বিপুল সরকারি জায়গা দখল করে আনসার আলীর তিন মেয়ে ও এক ছেলে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারা ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ নানা মাদকদ্রব্য নগরের বিভিন্ন এলাকায় সোর্স দিয়ে বিক্রি করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আরফিন নগরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের হাট বসে। ভাসমান বিক্রেতারা পকেটে কিংবা ব্যাগে করে ইয়াবা, গাঁজা বিক্রি করে। সন্ধ্যার পর পতিতাদের উৎপাতে কেন্দ্রীয় কবরস্থ’ান দিয়ে হাঁটাই যায় না। তাদের সামনে পড়লে যে কেউ বিব্রত অবস্থায় পড়ে। অথচ এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই।

আরফিন নগরের অধিবাসী জয়নাবা বেগম, আবুল হোসেন, রাসেল জানান, সন্ধ্যা নামতেই মনিকার লোকজন কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় ছোট ছোট বাচ্চা দিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকে। রাত যত বাড়ে কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় মাদকসেবীরা তত গিসগিস করে। এ সময় গার্মেন্ট ফেরত নারীশ্রমিকেরা যৌন নির্যাতনসহ নানা নির্যাতনের শিকার হন।

এলাকার লোকজন জানান, কেন্দ্রীয় কবরস্থানের আশপাশে মাদকের বিকিকিনি ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর, মহল্লা কমিটি, সচেতন যুবসমাজ এবং অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন আন্তরিক হলে এলাকাকে মাদক মুক্ত করা সম্ভব।

জানা গেছে, আরেফিন নগর এলাকায় মনিকার সিন্ডিকেটের পাশাপাশি ছিন্নমূলের আক্কাস বাহিনীর ভাগিনা সিজান, ছোটন, মোখলেস, শামসু, পেয়ারু, সবুজ প্রকাশ পিচ্ছি সবুজ ও রোকন মেম্বার মাদক ব্যবসায় জড়িত।

আরেফিন নগরের কলেজ শিক্ষক শাহ নুর বলেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অনেকবার অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে তৎপর হয়। দুই একজন ধরাও পড়ে। কিন্তু কিছু দিন পর ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায়। মাদকের গডফাদারকে সমূলে নির্মূল করার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।-দিগন্ত

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত