টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লাশ নেবেন না বাবা: সাব্বিরের পোস্ট ‘কিতালু ফি সাবিলিল্লাহ’

saচট্টগ্রাম, ২৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: রাজধানীর কল্যাণপুরে নিহত ‘জঙ্গি’ সাব্বিরুল হক কণিক ওরফে সাব্বিরের বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ছেলের লাশ শনাক্ত করতে ঢাকা যাচ্ছেন। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের মর্গে থাকা ৯ ‘জঙ্গি’র লাশের মধ্যে ছেলেকে শনাক্ত করবেন তিনি।

তবে যদি এই নয় লাশের মধ্যে ছেলেকে খুঁজেও পান তাহলে তিনি দাফনের জন্য সেই লাশ গ্রহণ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশকে।

বুধবার দুপুরে  এ তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। এরআগে সাব্বিরুল হকের পিতা আনোয়ারার বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরীকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার।

এদিকে, রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত ৯ জনের একজন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়ার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে সাব্বিরুল হক কণিক (২২) বলে ধারণা করছেন তার স্বজনেরা।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি দল রাত ১২টার দিকে কণিকদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খবর নিয়েছে।

অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক জঙ্গি হাসান নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮জনের নাম জানিয়েছে। তার বর্ণনায় সাব্বিরুল হক কণিকের নাম সাব্বির বলে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া পুলিশও নিহতদের ছবি প্রকাশ করে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ  বলেন, সাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার বাবা-মা ধারণা করছে এটা সাব্বিরের লাশ হতে পারে। তবে, ময়না তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

জানা যায়, আনোয়ারার বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরী রাশেদের ছেলে কণিক চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিল। সন্তান বিপথগামী হয়েছেন বুঝতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিও করা হয়নি।

কণিকের বাবা আজিজুল হক এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি সপরিবারে চট্টগ্রাম শহরে বাস করেন। চাকরি করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে। তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা। আজিজুল হকের সন্তান এভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে, এলাকার মানুষের কাছে তা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল।

আজিজুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। এমন পরিবারের সন্তান হয়ে কণিকের বিপথগামী হওয়া বড়ই কষ্টের। ভয়, শঙ্কা আর লজ্জায় এ ব্যাপারে এতদিন জিডি করেননি বলে জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কণিক আইআইইউসির ইকনোমিক অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

জানা যায়, তাবলিগের কথা বলে মাঝে মাঝে সপ্তাহ-দশদিনের জন্য উধাও হয়ে যেতেন। বছরখানেক আগে একবার তিন মাসের জন্য নিরুদ্দেশ থাকার পর বাসায় ফিরে আসেন। সর্বশেষ চার মাস আগে রাউজানে এক বিয়েতে যাওয়ার কথা বলে বাবার কাছ থেকে পাঁচশ টাকা নিয়ে বের হন। সেই থেকে কণিক নিখোঁজ। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না থাকায় সন্তানের আশা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। সন্তান নিজে বিপথগামী হয়েছেন বুঝতে পেরে নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করারও প্রয়োজন মনে করেননি তারা।

সম্প্রতি ‘আইডি নাম্বার দুই’ নামে ফেইসবুকের একটি ভুয়া আইডি থেকে তার কিছু তৎপরতা স্বজনদের কাছে ধরা পড়ে। ওই আইডি থেকে জানান, তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্ত কোথায় আছেন, কেমন আছেন কিছুই বলেননি।

জানা যায়, কণিক ছোটবেলায় ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। তার এক আত্মীয় জানান, ২০০৮ সালে নাইনে পড়ার সময় ‘আমগো সাব্বির দা’ নামে একটি ফেইসবুক আইডি খোলে ব্যবহার করে। গত দুই বছর ধরে সেটি ইনেক্টিভ করে রাখে। সম্প্রতি ‘আইডি নাম্বার দুই’ থেকে তার তৎপরতা দেখা যায়।

এই আইডিটি ছিল কোরআন-হাদিসের আলোকে নানা স্ট্যাটাসে ভরা।

সর্বশেষ এটির ব্যবহার হয়েছিল ২০১৪ সালে। এই আইডিতে অস্ত্র তাক করা এক জঙ্গির ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে। আছে পোশাকধারী কিছু মানুষের লাশ বহন করা এবং উটের দৌড়ের ছবি।

গত ২০১৩ এর ১৭মে আইডি নাম্বার দুই’এ  একজন লিখেছে ‘হ্যপি বার্থ ডে কনিক ভাই’। সেই আইডিতে গিয়ে আরো দেখা গেছে,  ২০১৪ সাল পর্যন্ত  এক্টিভ ছিলো। এরপর আর কোন প্রকার পোষ্ট করেনি সে।

সাব্বিরুল হক কনিকের সর্বশেষ ফেইসবুক স্টাটাস ছিল ইংরেজিতে লিখা ‘কিতালু ফি সাবিলিল্লাহ’ যা ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে পোষ্ট করা হয়েছিল। মোহাম্মদ তানবির নামের একজন পোষ্টটিতে কমেন্ট করেন ‘এর মানে বুঝিস?? হাইরে জংগী, তোদের কে ব্রেইনওয়াশ করা কত সহজ…..।”

অবশ্য এরপরে সে আর একজনের একটি ধর্মীয় স্ট্যাটাস শেয়ার করেছে এবং অপর একজন তাকে একটি পোস্টে ট্যাগ করেছে। ২০১৪সালের ৫ আগষ্টের পর এখানে আর কোন পোষ্ট, শেয়ার কিংবা ট্যাগ দেখা যায়নি।

এই ফেসবুক পাতা সম্পর্কে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দক্ষিন এমরান হোসেন জানান, “এটি সাব্বিরের কিনা সেটা খুজে দেখা হচ্ছে।”

মতামত