টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জলাবদ্ধতার সমাধান পেতে অপেক্ষা করতে হবে

albdচট্টগ্রাম, ২৫ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে জানিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, জলাবদ্ধতার সমাধান পেতে হলে নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে।

সোমবার নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তিতে এক আয়োজিত সুধী সমাবেশে নগরবাসীকে ধৈর্য্য ধরার এই অনুরোধ জানান।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই একবছরকে তার সাফল্য ব্যর্থতা বিচার করার উপযুক্ত সময় নয় বলেও উল্লেখ করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘গত একবছরে আমি যে সফল হয়েছি তা দাবি করবো না। কিন্তু সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার করার উপযুক্ত সময় এটা নয়। কারণ আরও সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে আমি জলাবদ্ধতা নিরসন করে ফেলব।’

মেয়র বলেন, ‘এক বছরে আমার পক্ষে এতটুকু কাজ করা সম্ভব হয়েছে। যা অন্যকারো পক্ষে সম্ভব হতো কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছি।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে জানিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘জলাবদ্ধতার সমাধান পেতে হলে নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মদুনাঘাট থেকে নেভাল একাডেমি পর্যন্ত বেড়িবাধ নির্মাণ ও কর্ণফুলি নদীর সাথে সংযুক্ত ছোট-বড় ২৬টি খালের ড্রেজিং এবং এসব খালের মুখে রেগুলেটর স্থাপনের ডিপিপি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে । তখন জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।’

আগামী এক মাসের মধ্যে ডিপিপি চূড়ান্ত হয়ে প্রকল্পটি একনেকে যাবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এ বছরের মধ্যে একনেকে সেটা অনুমোদন পেয়ে যাবে। এরপর বাস্তবায়নে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতার দীর্ঘস্থায়ী একটা সমাধান হবে।’

জনগণের পরামর্শ মোবাইল ফোনে নেওয়া হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘সকল ধরণের পরামর্শ-সহযোগিতা আমার প্রয়োজন।জনগণের আলোচনা-সমালোচনাও নির্দ্বিধায় আমি শুনব।আমার মোবাইল নম্বর অনেকের কাছেই আছে, না থাকলে আমি দিয়ে দেব। আমাকে ফোন করে, এসএমএস পাঠিয়ে আপনারা পরামর্শ দিতে পারেন।’

জলাবদ্ধতার বিষয়ে শুরু থেকে নিজেকে আন্তরিক দাবি করে মেয়র বলেন, ‘বর্ষায় সিসিসি’র প্রস্তুতির কারণে এ বছর যথেষ্ট বৃষ্টিপাতেও জলজটের ঘটনা ঘটেনি।’

মেয়র নগরবাসীকে দোষারোপ করে বলেন, ‘উন্নত দেশের মত চট্টগ্রামেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার আইন চালু করলেও সেটা পালন করেনি নগরবাসী। তাদের সহযোগিতা না পেলে যেরকম পরিকল্পনাই হোক, সেটা বাস্তবায়ন করা সহজ না।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং (ইউএসটিসি) উপাচার্য ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের নগর সম্পাদক এম নাসিরুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বক্তব্য রাখেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত