টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি পণ্যের ওজন সনদের চার্জ জটিলতা নিরসনে কমিটি

চট্টগ্রাম, ২৪ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: সমুদ্রে পথে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেটের চার্জ আদায়ের জটিলতা নিরসনে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে দীর্ঘসময়ের বৈঠকে চার্জ আদায় ও প্রদানের জটিলতা নিরসন না হওয়ায় এ কমিটি করা হয়।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বিজিএমইএ, বিকডা, বাফা, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। সদস্য সচিব হিসেবে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন এম. জসীমউদ্দীন সরকারকে রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক পরিবহন গোলাম সরওয়ার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (শুল্ক), মংলা বন্দরের উপ-পরিচালক (পরিবহন), বাফার অমিয় শংকর বর্মন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর রায়, বিকডার ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের শাহেদ সরওয়ার, বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং এসোসিয়েশনের ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের আরিফুল হক, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, বিকেএমইএর শওকত ওসমান এবং সিঅ্যান্ডএফ এসোসিয়েশনের কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু।

রপ্তানি পণ্যের ওজন ভেরিফাই সনদের চার্জ কে প্রদান করবে এবং এই চার্জ কত টাকা হবে- তা আগামী ১ মাসের মধ্যে নির্ধারণ করে প্রতিবেদনে জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী দেড় মাস পর্যন্ত বিকডার চার্জ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত মাসের বকেয়া চার্জ আদায় করবে বিকডা।

প্রসঙ্গত, সমুদ্রে জাহাজের নিরাপত্তা এবং জাহাজে ধারণক্ষমতার বেশি পণ্য না নিতে পণ্যবাহী কন্টেইনারের ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেটের বাধ্যতামূলক করেছিল ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)। গত ১ জুলাই থেকে সনদ প্রদান বাধ্যতামূলক করার পর এর চার্জ আদায় নিয়ে শিপার প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে জটিলতা দেখা দেয়।

বিজিএমইএর তথ্য মতে, বেসরকারি আইসিডিতে (ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো) রপ্তানি পণ্যের ওজন পরিমাপে প্রতি কন্টেইনার ভেদে ১৫০০ টাকা ও ৩০০০ টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে এই টাকা দাবি করছে শিপার প্রতিষ্ঠানগুলো।

কিন্তু বিজিএমইএ বলছে, রপ্তানিকৃত কন্টেইনারের ওজন সনদ গ্রহণের দায়িত্ব শিপার প্রতিষ্ঠানের। তাই এর জন্য কোনো চার্জ পরিশোধ করতে হলে তা সংশ্লিষ্ট শিপার প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে। কারণ প্রাইভেট আইসিডির সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদনের চুক্তি শিপার প্রতিষ্ঠানের।

বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওজন যাচাই সনদ দেওয়া হয় মূলত জাহাজের নিরাপত্তার জন্য। এটা শিপার কাজ। যেহেতু আমরা কন্টেইনার চার্জ দিচ্ছি সেহেতু ওজন যাচাইয়ের সনদের চার্জ আমরা কেন দেব?

তিনি অভিযোগ করেন, আমরা প্রতি টন পণ্যের জন্য ১৮০ টাকা ল্যান্ডিং চার্জ দিয়ে থাকি। কিন্তু বিকডা কোন নীতিমালা না মেনে অতিরিক্ত চার্জ আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে। আমরা কোন ধরণের চার্জ দিতে চাই না।

এদিকে বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ওজন যাচাই সনদ এর জন্য আমাদের কাজ অনেক বেড়ে গেছে। অর্থাৎ আগে একটি কন্টেইনার কেবল স্টাফিং করা হতো। আর এখন গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করতে হয়। কন্টেইনারটি গাড়ি থেকে নামাতে হয়, আবার তুলতে হয় এবং ওজন করতে হয়। এতে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। যন্ত্রপাতির দরকার; হচ্ছে আবার শ্রমিকদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে তাদের বেতনও বেশি দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অতিরিক্ত কাজ করবো; কিন্তু চার্জ পাব না- সেটা কেমন করে হয়? অতিরিক্ত কাজের জন্য বিকডা শিপারের কাছে অতিরিক্ত চার্জ পাবে। ডিজি শিপিংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিপার বিজিএমইএর কাছ থেকে তা আদায় করবে।

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে আইএমওর সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি (সোলাস) কনভেনশন রেগুলেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাধ্যতামূলক করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশেও এ নির্দেশনা কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত ঘোষণার চেয়ে বেশি পণ্য জাহাজীকরণের ফলে বিভিন্ন সময় নৌ-পথে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কমাতে পণ্য পরিবহনে সোলাস কনভেনশন বাধ্যতামূলক করেছে আইএমও।

মতামত