টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম থেকেই মিলবে বহির্গমন ছাড়পত্র

workচট্টগ্রাম, ২৪ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্ট কার্ডের জন্য এখন আর ঢাকায় ছুটতে হবে না চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদেশগামী শ্রমিক ও কর্মীদের। ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে এ সুবিধা চালু করা হচ্ছে। এতে বিদেশগামী শ্রমিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। ৩১ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় থেকে এই সেবা পাওয়া যাবে।

কাজের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের নিবন্ধন, আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গার ইমপ্রেশন) পাশাপাশি স্মার্ট কার্ড ও বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেয় জনশক্তি রপ্তানিকারক কোনো প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলার বিদেশগামী শ্রমিকদের ঢাকায় গিয়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প্রধান কার্যালয় থেকে স্মার্ট কার্ড ও বহির্গমন ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হয়। এতে যাতায়াত খরচসহ নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিকদের। এ ভোগান্তি দূর করতে চট্টগ্রাম থেকেই এ সেবা দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রাও দাবি জানিয়ে আসছিল। চট্টগ্রামে বহির্গমন ছাড়পত্রের সুবিধা চালু করতে দুই বছর আগে ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকও।

বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা মুঠোফোনে বলেন, ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। দেশের যেসব জেলা থেকে অধিকসংখ্যক শ্রমিক বিদেশে যান, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকায় এই সেবা
কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, বহির্গমন ছাড়পত্র চট্টগ্রাম থেকে চালু করা হলে বিদেশগামী শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও হয়রানির হাত থেকে বেঁচে যাবে।

স্মার্ট কার্ড বা কম্পিউটার ম্যাগনেটিক চিপ কার্ডে বিদেশগামী একজন শ্রমিকের ছবি, আঙুলের ছাপসহ ১৮ ধরনের তথ্য থাকে। আবেদন করার সর্বোচ্চ দুই কর্মদিবসের মধ্যে একজন শ্রমিককে স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করা হয়। বহির্গমন ছাড়পত্রের অংশ হিসেবে এই কার্ড দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, চট্টগ্রামে বসবাসরত দেশের যেকোনো অঞ্চলের মানুষ বহির্গমন ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য এখানে আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে কেবল একক ভিসার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, দশ বছর ধরে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জেলার স্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে কুমিল্লা। গত বছর চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৩২ হাজার ৩৯৯ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪১১ জন নারী শ্রমিক। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে গেছেন মোট ২১ হাজার ৯৭৩ জন শ্রমিক। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক শ্রমিক এ অঞ্চল থেকে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বিদেশে যাচ্ছেন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক দশকে চট্টগ্রাম থেকে ৫ লাখ ৪১ হাজার ১১২ জন দেশের বাইরে কাজের খোঁজে গেছেন।

চট্টগ্রাম থেকে অনাপত্তি সনদ চালু: বিদেশে থাকা কোনো শ্রমিকের কাছে স্ত্রী-সন্তান বা মা-বাবা বেড়াতে যেতে চাইলে তাঁদের বিএমইটি থেকে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নিতে হয়। এত দিন এই সনদ শুধু ঢাকায় ব্যুরোর প্রধান কার্যালয় থেকে নেওয়া যেত। গত ৭ জুন থেকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটের জেলা কার্যালয় থেকে এ সনদ দেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও কার্যালয়ে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অনাপত্তি সনদ নিতে আসেন চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা রোজি আকতার। তাঁর স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। তিন মাসের জন্য সন্তানদের নিয়ে স্বামীর কাছে বেড়াতে যাবেন রোজি। চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ করতে পারায় বেশ খুশি তিনি। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এই সুবিধা চালু হওয়ায় আমাকে ঢাকায় যেতে হয়নি।’

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৭ জুন থেকে ২১ জুলাই—এই দেড় মাসে চট্টগ্রামের কার্যালয় থেকে ২৯৮ জন অনাপত্তি সনদ নিয়েছেন।

সুত্রঃ প্রথম আলো

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত