টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেয়া হবে বসবাসযোগ্য শহর

এক বছরের পূর্তিতে নাগরিক সংলাপে মেয়র নাছির

ajচট্টগ্রাম, ২৩ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম মহানগরে আর উঠবে না কোনো বিলবোর্ড, ফুটপাতে নির্দিষ্ট সময়ে বসবে হকার, রাস্তার মোড় থেকে একটু দূরে নির্মাণ করা হবে যাত্রী ছাউনি ও পাবলিক টয়লেট, পুরো নগরীতে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো, ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ডোর টু ডোর ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ কার্যক্রম, পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে আউটার স্টেডিয়াম, জোয়ারের পানি প্রবেশ ঠেকাতে মদুনাঘাট থেকে নেভাল একাডেমি পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে বেড়িবাধঁ ও ২৬ খালের মুখে স্লুইস গেট। নগরকে বদলে দেয়ার এসব কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দেয়া হবে একটি বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের এক বছরের পূর্তি উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিকসুপ্রভাত বাংলাদেশ আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এই ঘোষণা দেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সুপ্রভাত বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল মোমেনের উপস্থাপনায় সুপ্রভাত স্টুডিও হলে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সংলাপে স্বাগত বর্ক্তৃতা দেন পত্রিকার সম্পাদক রুশো মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্যে সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ বলেন,‘ চট্টগ্রাম বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে উঠুক। কিন্তু এজন্য নগর পরিকল্পনা ও নগর ভাবনায় আধুনিক অগ্রসর, গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানমনস্ক, সমষ্টিস্বার্থ রক্ষাকারি দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা জরুরি ও বাঞ্ছনীয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটা সংকটময় সময় পার করছি। বর্তমানে আমাদের কিশোর ও তারুণ্যের যে সংকট, যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি আমরা। রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে আমাদের নাগরিক প্রয়াস সর্বব্যাপ্ত করতে হবে। নগরে সংস্কৃতিচর্চাসহ নানা আয়োজন বিস্তৃত করতে নগরীর কয়েকটি অঞ্চলে নগর সংস্কৃতি কেন্দ্র, ৪১টি ওয়ার্ডে ছোট পাঠাগার স্থাপন, দায়সারাভাবে নয় সত্যিকার অর্থে আন্তস্কুল, আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার আয়োজন, নগরে খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান জরুরি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের যে ঐতিহ্য ছিলো, সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

চট্টগ্রাম শহরে আর কোনো বিলবোর্ড উঠবে না উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এই শহর হবে বিলবোর্ড মুক্ত। নগরীর কোথাও আর কোনো বিলবোর্ড উঠবে না। সিটি কর্পোরেশনে দক্ষ জনবল নেয়ার জন্য অনুমোদন করা হচ্ছে অর্গানুগ্রাম। দেশের সব সিটি করপোরেশনে অনুমোদিত অর্গানুগ্রাম থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নেই।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে পরিকল্পিতভাবে আমি কিভাবে গড়ে তুলবো? আমার দক্ষ জনবল নেই, রয়েছে অর্থের সমস্যা। অর্গানুগ্রাম অনুমোদনের মাধ্যমে দক্ষ জনবল নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং সিটি করপোরেশনে একটি প্ল্যানিং বিভাগ গড়ে তোলা হবে।

নাগরিক সংলাপে মেয়রকে উদ্দেশ্য করে প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের শুরুতে নগরীর সব বিলবোর্ড অপসারণ করে যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, এখন কেমন যেন একটু ধীর হয়ে গেছেন?

প্রকৌশলী এম আলী আশরাফের বক্তব্যের জবাবে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন,‘ আমি ধীর হইনি। গত এক বছরে আমি সিটি করপোরেশনের বাস্তব অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। এই জানার ফলে এখন কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। এখন নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে নগরীর সব উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম করা হবে। এতে বর্ষার কারণে আর কাজের কোনো ডিস্টার্ব হবে না। আগামী তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম হবে একটি আলোকিত শহর এবং বসবাসযোগ্য নগরী।‘

নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘নগরীতে কোথাও নালা নর্দমা আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আবার পাহাড় কাটা মাটি জমে নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও আবার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা। এসব অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য নালা ও খাল নিয়মিত পরিস্কার করার পাশাপাশি পাহাড়ের পাশে দেয়াল দেয়া হবে। অপরদিকে মদুনাঘাট থেকে নেভাল একাডেমি পর্যন্ত ২৬ খালের মুখে রেগুলেটর বসিয়ে ঠেকানো হবে জোয়ারের পানি।’

নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আগে দিনে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হতো। এখন তা রাতে করা হচ্ছে। এখন রাতে পরিস্কার করে নিয়ে যাওয়ার পর যদি ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলে তাহলে তো থেকে যাবে। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া আগামী ১ আগস্ট থেকে নগরীর ৭টি ওয়ার্ডে শুরু হচ্ছে ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ কার্যক্রম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে চলবে এই আবর্জনা সংগ্রহ।

নগরীতে কর আদায় প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কর প্রতি পাঁচ বছর পর পর এসেসমেন্ট করতে হয়। নতুন কোনো আইন নয়, পূর্বের আইনে কর আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া বাড়লে কর বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। আগে কর আদায় নিশ্চিত করা হতো না, এখন তা বিধি অনুযায়ী নিশ্চয়ন করা হচ্ছে।

হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, হকারদের একেবারে উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। হকারদেরকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বসা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে সারাদিন রাস্তাঘাটগুলো হকারমুক্ত থাকবে এবং হকাররাও তাদের ব্যবসা করতে পারলো। এজন্য সব হকারকে আইডি কার্ড করে দেয়া হবে।

চট্টগ্রামের সব সরকারি সংস্থার সমন্বয় ছাড়া পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে না জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন,‘ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি চিঠি ইস্যু হয়েছে। সেই চিঠিতে মাহনগরগুলোর সব সরকারি সংস্থাকে বলা হয়েছে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য। এখন এই চিঠিকে ব্যবহার করে আমি সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

পরিকল্পনা ছাড়াই চট্টগ্রাম নগরের বিস্তার ঘটছে এবং নগর দিন দিন অপরিকল্পিত শহরে পরিণত হচ্ছে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সদস্য প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন,‘ নগরীতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের অন্যতম কারণ হলো পরিকল্পনা করার জন্য কোনো বিভাগ নেই। পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হবে এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকান্ড চললে চট্টগ্রাম বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।’

প্রকৌশলী সুভাষ বড়–য়ার সাথে সহমত পোষণ করে স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অনেক সড়কে ফুটপাত নেই। এতে নগরবাসী যেমন হাঁটতে পারবে না, তেমনিভাবে রাস্তায় যানজট হবে। সিটি করপোরেশনে যতোগুলো বিভাগ রয়েছে সেখানে প্ল্যানিং বলে কিছু নেই, রয়েছে প্রকৌশল বিভাগ। প্ল্যানিং বিভাগ ছাড়া প্রকৌশল বিভাগ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করলে বিপত্তি দেখা দিতে পারে।

ইউএসটিসির উপাচার্য ও বিশিষ্ট কমিউনিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়–য়া বলেন, ‘নগরীতে যথাযথ পাবলিক টয়লেট নেই। যথাসময়ে টয়লেট ব্যবহার করতে না পারলে পুরুষ ও নারীদের বিভিন্ন রোগ হতে পারে’

এবিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে যাতে গাড়ি থামাতে না পারে সেজন্য মোড় থেকে একটু দূরে গিয়ে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হবে। সেই যাত্রী ছাউনিতে সব বাস থামবে। আর যাত্রীর ছাউনির সাথে সংযুক্ত থাকবে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট।

চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহববুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর হওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ট্রাক চলাচল করে। কিন্তু টার্মিনালের অভাবে এগুলো রাস্তার পাশে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থেকে নাগরিক অসুবিধার তৈরি করে। শাহ আমানত সেতু এবং হালিশহর এলাকায় টার্মিনাল তৈরির জায়গা আছে সেখানে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।’

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল রেখে পথচারীদের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করছেন। একইভাবে যারা যত্রতত্র রাস্তায় ময়লা ফেলে এবং ফুটপাত দখল করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান করতে হবে। শিল্পায়নের অভাবে আমরা কর্মসংস্থান না হওয়ায় আমরা অর্থনৈতিক পিছিয়ে যাচ্ছি।

ইউএসটিসির উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘সুন্দর পরিবেশ, বিশুদ্ধ বায়ু, খাদ্য নিশ্চিত করতে স্যানিটেশনটা জরুরী। এখন সিটি করপোরেশনের ১৪ জন স্যানেটারি ইনস্পেক্টর আছে, এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে স্যানেটারি ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা যেতে পারে। তাহলে ফুড স্যানেটিশনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যাবে।‘

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিউরেটর ড. শামসুল হোসাইন বলেন,‘ বিশ্বমানের শহর তৈরি করতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা জরুরী। চট্টগ্রাম প্রাচীন শহর। প্রাচীন অনেক ঐতিহ্য এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নগরের যে উপাদানগুলো আছে বিশ্বমানের শহর করতে গেলে এগুলো তুলে ধরতে হবে। সাংস্কৃতিকভাবে মানুষকে পরিবর্তন করতে না পারলে মানসিকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। হেরিটেজ রক্ষা করতে গেলে আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে প্রয়োজন। চট্টগ্রামে আমাদের কি কি পুরাকীর্তি আছে তা জানতে একটি আর্কেওলজিক্যাল প্রয়োজন।‘

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রামের সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন,‘ নগরের ৯০ শতাংশ ছেলে-মেয়ে সাঁতার জানে না। তারা কক্সবাজারে গিয়ে মারা যাচ্ছে। পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে জনগণ প্রতিবাদ করছে না। আইন অনুযায়ী কেউ চাইলেও বাপ-দাদার পুুকুরও ভরাট করতে পারে না। ২০ বিশ হাজার টাকা দিয়ে আমরা হোটেল আগ্রাবাদের সুইমিং পুলে ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শিখাতে পারব না। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।‘

উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ বলেন, স্বাধীনতার পর নগরীতে ১৮টি গানের স্কুল ছিল। যেগুলো সিটি করপোরেশনের স্কুলে ছুটির পর পরিচালিক হৎতো। কিন্তু ৯০’র দশকের দিকে সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলো ব্যবহারের এই সুবিধা বাতিল করে। পুনরায় এই সুবিধা দিলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা সহজ হবে।

বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমান জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে হাঁটার ও খেলার জন্য আমরা জায়গা দিতে পারছি না। তাদের জন্য কিছু করতে হবে। ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশিষ্ট নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী বলেন, হলি আর্টিজানের হামলার পর সবাই বলছে সংস্কতিচর্চাই এর থেকে উত্তরণের পথ। ক্রীড়াক্ষেত্রে আপনার যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি সংস্কৃতিতে আশা করি আপনার অবদান থাকবে। সংস্কৃতিকর্মীরা অর্থের কাঙ্গাল নয়। আমাদের মিলনায়তন ও মঞ্চ দরকার। ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি মুক্তমঞ্চ করে দিলে সংস্কৃতি চর্চার পথটি আরো সুগম হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত