টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলা ভাষার ‘বিকাশ’ এবং একজন মোস্তাফিজ

চট্টগ্রাম, ২৩ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  তিনি ভাষাবিদ নন মোটেও। সবসময় যে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলেন এমনটাও নয়, বরং কথায় সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষার টান স্পষ্ট। কিন্তু এই লোকটিই আবার বহু বিদেশিকে বাংলা শেখাতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি আর কেউ নন, সদ্য কৈশোর পার হওয়া আমাদের মোস্তাফিজ।

বাংলার প্রেমে মজে এই ভাষা চর্চা করছেন এমন লোকের দেখা পাওয়া কঠিন নয়। নিজ দেশে বসে বহু বিদেশি বাংলা বলছেন, শিখছেন। তবে মোস্তাফিজ যাদেরকে এই ভাষাটি চর্চা করতে উৎসাহিত করেছেন তারা তা করছেন প্রয়োজনের তাগিদে। বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তাদের ভাষা শিখতে হবে কেন? তারাই আমাদের ভাষা শিখবে, এটাই প্রতিষ্ঠিত করছেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন মোস্তাফিজুর রহমান।

১৯ ছুঁই ছুঁই। এ বয়সেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মোস্তাফিজ। দেশের জার্সিতে দ্যুতি ছড়ানো এই পেসার ডাক পান বিদেশের জনপ্রিয় সব লিগেও। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তাঁর বোলিং নৈপুণ্যে ভালোভাবেই টের পেয়েছেন বিশ্বের সব বিখ্যাত ব্যাটসম্যানরা। তবে ২২ গজের বাইরে মোস্তাফিজকে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘ভাষা’। কেবল তাঁর জন্যই বাংলা শিখতে হয়েছে আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দলনেতা ডেভিড ওয়ার্নারকে। অস্ট্রেলিয়ার একজন প্রমিত ইংরেজি ‘জানেওয়ালাও’ মোস্তাফিজের বদৌলতেই বাংলা শিখতে হল। শুধু কি ওয়ার্নার? দলটির কোচ থেকে শুরু করে আরও কয়েকজন সতীর্থ ক্রিকেটারও বাংলাকে কুর্নিশ প্রদর্শন করতে ভুল করেননি।

গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে বাংলা শিখে আবার বাংলাতে টুইটও করেছেন ওয়ার্নার। এমনভাবে বাংলাকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজটি আগে কখনও হয়েছি কি? উত্তরে না ছাড়া আর কিছুই মিলবে না। টিমের পরামর্শক ভিভিএস লক্ষণ, সতীর্থ আশিশ নেহরা, ভুবনেশ্বর কুমার, আর কিউই (নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়) ট্রেন্ড বোল্টও এখন দুই চার লাইন বাংলা বলতে পারেন।

আইপিএল শেষে মোস্তাফিজ জাদু ছড়াচ্ছেন ভারতীয় উপমহাদেশ কবজা করে নেয়া ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত বাংলার তরুণের। চার উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চোখে সর্ষে ফুল দেখাতে বাধ্য করলেন মোস্তাফিজ। আর এই জাদুতেই শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থন পেতে বাংলার দারস্থ হলো মোস্তাফিজের কাউন্টি দল সাসেক্সও।

মোস্তাফিজ দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার খানিক আগে নিজেদের ফেসবুক পেজে প্রথমবারের মত বাংলায় স্ট্যাটাস দিল সাসেক্স। চাইলো বাংলাভাষাভাষীদের সমর্থন। কোনো বিদেশি লিগে ক্লাবের ফেসবুকে বাংলায় স্ট্যাটাসের দেয়ার প্রথম নজির গড়লো লুক রাইটের দল।

বাংলা ভাষায় প্রতি ইংরেজদের এমন সম্মান কারো কল্পনায় থাকারও কথা নয়। যে দেশটি ইংরেজি ভাষার জনক। যাদের হাত ধরে ইংরেজি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কিনা বাংলা ভাষাও জানেন। বাংলাতেও কথা বলতে পারেন! এসব সম্ভব হয়েছে মোস্তাফিজের জন্যই। এই তরুণ তুর্কীর প্রতি সম্মান রেখেই বাংলা চর্চা করল খোদ ইংরেজরাও।

ইংলিশদের এমন সম্মানে বেশ উচ্ছ্বসিত টাইগার সমর্থকরা। মুন্না নামের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘আমাদের মাতৃভাষা ব্যাবহার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ. আমরা গর্বিত, শুভ কামনা ফিজের এবং সাসেক্সের জন্য!’

স্বভাবতই বাংলাভাষাভাষীরা গর্বিত। সাসেক্সের ফেসবুক পেজে বাংলাতেই লিখেছেন একজন রেজওয়ান। তিনি লিখেছে, ‘আহা কি মধুর দৃশ্য! প্রিয় বাংলাভাষা তুমি ছড়িয়ে পড়ো সারাবিশ্বে৷ মোস্তাফিজুর রহমান “দ্য ফিজ” তুমি আমাদের সম্পদ তুমি আমাদের গর্ব, তুমি বিশ্ব ক্রিকেটের গর্ব। ধন্যবাদ সাসেক্স, শুভকামনা তোমাদের জন্য।’

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও এখন বাংলার জয়জয়কার। সেই ১৯৫২ সালে মায়ের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রাজপথে লড়েছে এদেশের লক্ষ-কোটি বাঙালি। তারপর কেটে গেছে কয়েক যুগ। নতুন দিনে নতুন প্রেরণা নিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এগোচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি পর্যায়েও। এ এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাকে যারা বিকশিত করছেন। যারা মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন, তবে কি তাদের একজন মোস্তাফিজ?-ঢাকাটাইমস

মতামত