টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লাইসেন্স নেই

চট্টগ্রাম, ২২  জুলাই (সিটিজি টাইমস):   বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এছাড়া মহানগরীর বাইরের উপজেলাগুলোতেও কয়েক হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ডিলিং বা ব্যবসায়িক লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনরে ব্যবসা-বাণিজ্য শাখা সূত্র জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে ব্যবসায়িক আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটি ১৯৮১ সালে সংশোধন করে ১০টি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনরে কাছ থেকে ‘ডিলিং লাইসেন্স’ নেওয়া অত্যাবশ্যক করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আদশে ১৯৮১ আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, উৎপাদক ও আমদানিকারক ছাড়া অন্য কোনো তফসিলভুক্ত পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় বা মজুদের ব্যাপারে কোনো চুক্তি হবে না। যদি না তিনি একজন ডিলার হন এবং ডেপুটি কমিশনার দ্বারা এতদ উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত লাইসেন্সের অধকিারী হন।

লাইসেন্স ও নবায়নের জন্য নির্ধারিত পণ্যের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, লোহা ও স্টিলের সামগ্রীর জন্য লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা। সিমেন্টের ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ৫০০ টাকা ও ২৫০ টাকা। পাইকারি কাপড় ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা। খুচরা কাপড় ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ২০০ টাকা ও ১০০ টাকা। সুতার পাইকারি ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ৪০০ টাকা ও ২০০ টাকা। খুচরা সুতার ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০ টাকা ও ৫০ টাকা। মনিকার ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা। র্স্বণকারের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০ টাকা ও ৫০ টাকা। দুগ্ধ খাদ্যের জন্য লাইসেন্স ফি ৫০ টাকা ও নবায়ন ফি ২৫ টাকা। সিগারেট ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যথাক্রমে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা।

তবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫০ হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টি সিমেন্ট ও ২০টি লোহার ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া ৬টি কাপড় এবং ৫টি শিশু খাদ্য ব্যবসায়ের লাইসেন্স দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এসব লাইসেন্সের বেশিরভাগই নবায়ন করা হয়নি।

নগরীর অধিকাংশ ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ডিলিং লাইসেন্স সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা। চট্টগ্রাম টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমতিরি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, ব্যবসায়িক আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা অবগত নন। আমাদের জানানো হলে অন্যান্য লাইসেন্সের মতো ডিলিং লাইসন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আমরা কার্পণ্য করবো না।

রেয়াজউদ্দনি বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, রেয়াজউদ্দনি বাজার ও এর আশাপাশে ১০ হাজাররে বেশি দোকান রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, কর দিয়ে ব্যবসা পরচিালনা করেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ডিলিং লাইসেন্সের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কিছুই জানেন না। প্রশাসনের প্রচারণা ও তদারকি হলে ব্যবসায়ীরা এই লাইসেন্সও নেবেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ও নগরীর বাইরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স না থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ব্যবসায়িক আইন ও লাইসেন্সের বিষয়ে জেলা প্রশাসনরে পক্ষ থেকে প্রচারণা ও নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। আর এ কারণেই প্রতি বছর কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অন্যদিকে লাইসেন্স না নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসকের ব্যবসায়ী শাখার অফিস সহকারী তেজন্দ্র কুমার দেবনাথ। তিনি বলেন, আইনে মহানগর ও জেলার ১৪ উপজলোর ব্যবসায়ীদের ডিলিং লাইসেন্স নেওয়া অত্যবশ্যক। শুধু মহানগরে ৫০ হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতষ্ঠিান থাকলেও লাইসেন্স করেন না ব্যবসায়ীরা। তাদের উদাসীনতার কারণে রাজস্ব আদায়ে সরকাররে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।

ঈদের আগে জেলা প্রশাসক মেসবাহ উদ্দীন বলেছিলেন, ঈদের পর ডিলিং লাইসেন্সের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, ডিলিং লাইসেন্সের বিষয়ে শিগগির মাঠে নামছে মনিটরিং টিম। প্রাথমিক অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সর্তক করা হবে। এরপর নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা ডিলিং লাইসেন্স না নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত