টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের মাছ উৎপাদন

চট্টগ্রাম, ২০ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি বাংলাদেশের রাঙামাটির পার্বত্য জেলার কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মৎস্য গবেষক ও কর্মকর্তারা।

তবে কাপ্তাই হ্রদের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’ নামে সরকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানিয়েছেন জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ওই প্রকল্পে সরকার ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান বলেন, সংরক্ষণের অভাবে কাপ্তাই হ্রদের পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। বিষাক্ত দ্রব্য, বৈর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপসহ নানা কারণে দুষণের শিকার হচ্ছে কাপ্তাই লেকের পানি। এছাড়া পলি জমে দিনদিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে হ্রদের তলদেশ। ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মৎস্য বিচরণ ক্ষেত্র ও তাদের আবাসস্থল।

উদ্বেগজনক হারে হ্রদে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলে কাপ্তাই লেকের পাশাপাশি মাছ উৎপাদন বাড়াতে সরকার মৎস্য অধিদফতরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় কাজ চলছে। আগামী বছর প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে।

তিনি জানান, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায় (২০০৫-০৭) এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় পর্যায় (২০০৮-১২) শেষে বর্তমানে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় পর্যায় (২০১২-১৭) বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলার মোট ২৫ উপজেলায় এটির বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

পার্বত্য জেলাগুলোতে মৎস্যচাষ কার্যক্রম ও উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় জনগণের আয় ও পুষ্টির জোগানই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এর মূল কাজ হলো- পাহাড়ি ছড়ায় ক্রীকবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জলাশয় সৃষ্টি ও উন্নয়ন করে সেখানে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, শাক-সবজি চাষ, কৃষি, সেচ সুবিধা ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার, মাছের পোনা উৎপাদন ও লালন-পালনের জন্য মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারি স্থাপন এবং স্থানীয় মৎস্য চাষিদের চাষ, প্রযুক্তি ব্যবহার ও সম্প্রসারণের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া।

প্রকল্পে এ পর্যন্ত ছয় হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। হ্যাচারির জন্য ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে দুই দশমিক ৫০ হেক্টর। মিনি মৎস্য হ্যাচারি নির্মিত হয়েছে একটি। মোট ৯০৩ হেক্টর জমিতে ক্রীক উন্নয়ন করা হয়েছে ৮০৪ এবং নার্সারি উন্নয়ন হয়েছে ২৫ একর জায়গায়। বর্তমানে কার্প জাতীয় মাছের রেণু উৎপাদন বছরে ১২০ কেজি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে কাপ্তাই হ্রদে মোট ৭৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশি প্রজাতির ৬৭ এবং বিদেশি প্রজাতির ৮। এছাড়া ২ প্রজাতির চিংড়ি, ২ প্রজাতির কচ্ছপ ও ২ প্রজাতির ডলফিন পাওয়া যেত। বর্তমানে ছোট প্রজাতির চিংড়ি পাওয়া গেলেও গলদা চিংড়ি এবং কচ্ছপ ও ডলফিন প্রজাতির মাছ হ্রদ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ছয় প্রজাতির মাছ কাপ্তাই হ্রদ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য গবেষকরা বলেন, প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট কাপ্তাই হ্রদ দেশের প্রধান মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র। কিন্তু বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে হ্রদে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় এক সময়কার দেশীয় মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদে এখন দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো হুমকিতে রয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছের সঙ্কটময় অবস্থায় হ্রদে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিদেশি প্রজাতির মাছ।

মতামত