টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুই দিনের পদবী!

চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  ২০১৫ সালের ২৫ ও ২৬ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯ জুলাই এক বছরের মেয়াদী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যথাক্রমে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর টিপু এবং সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ফজলে রাব্বি সুজনের নাম ঘোষণা করে কাউন্সিলের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টিপু-সুজনের নাম ঘোষণার পর থেকে চবিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়ায় তাদের অনুসারীরা। গত নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ভর্তিচ্ছুদের শুভেচ্ছা জানানোর সময়ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে চবি ছাত্রলীগ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্র। একইসঙ্গে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর কথাও বলা হয়েছিল।

এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নেতাকর্মী কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বলেও খবর পাওয়া গেছে। অবশেষে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ দিন আগে চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা দিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। মোহাম্মদ আলমগীর টিপুকে সভাপতি এবং ফজলে রাব্বি সুজনকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখেই গতকাল রোববার (১৭ জুলাই) ২০১ সদস্যের চবি ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা করা হলো।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, টিপু-সুজন কমিটির মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। এই কমিটির একেবারে শেষ প্রান্তে অর্থাৎ মাত্র ১ দিন বাকি থাকতে গতকাল রোববার (১৭ জুলাই) চবি ছাত্রলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

আজ সোমবার মেয়াদ শেষ হতে ২০১ সদস্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ২৬ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৯ জনের নাম রয়েছে।

এছাড়া প্রচার, দপ্তর, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা, শিক্ষা ও পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক, সমাজ সেবা, ক্রীড়া, পাঠাগার, তথ্য ও গবেষণা, অর্থ, আইন, পরিবেশ, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি, ধর্ম, গণ শিক্ষা, ত্রাণ ও দুর্যোগ, সাহিত্য, গণযোগাযোগ উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আপ্যায়ন, কৃষি, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রী বিষয়ক, স্কুল ছাত্র বিষয়ক ও ছাত্র বৃত্তি প্রতিটি পদে একজন করে সম্পাদক এবং এক বা একাধিক উপ-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৪৬ জন সহ-সম্পাদক এবং ৩৯ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ সম্পর্কে কেন্দ্র থেকে এখনও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই মেয়াদ নিয়ে অনেকটা দ্বিধার মধ্যে রয়েছেন পদ পাওয়া নেতারা। তাদের কেউ কেউ বলছেন, মাত্র দুই দিনের জন্য কমিটিতে জায়গা পেয়েছি। তবু ভালো; কিছু তো পেলাম। অনেকের মতো বঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে না।

তবে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর টিপু শোনালেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, যেকোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এর মেয়াদও নির্দিষ্ট পরিমাণ বাড়ানো হয়। কমিটির মেয়াদ সম্পর্কে কেন্দ্র থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, সংগঠনের স্বার্থে যেকোনো কমিটির মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদও ৩ মাস বাড়ানো হলো। এরপর এর মেয়াদ আর বাড়ানো হবে কি না- তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত কয়েকদিন ফেসবুকে কমিটি বিষয়ক বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত ছাত্রলীগ কর্মীরা। ২০১ সদস্যদের নাম ঘোষণার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ আনন্দে উদ্বেলিত পোস্ট দিচ্ছে। আবার কারো কারো পোস্টে হতাশার ছাপ। কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাকর্মীদের ফেসবুকে স্বাগতও জানাচ্ছেন তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

নতুন কমিটির এক সহ সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার সন্তানদের বলতে পারব, আমি চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলাম। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও এই পদবী ট্রেড লাইসেন্স হিসেবে কাজ দেবে।

কমিটিতে জায়গা না পাওয়া চবি ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান তার ফেসবুকে লিখেছেন, শেষ পযর্ন্ত নোংরা রাজনীতির শিকার হলাম। এতো অন্যায়, অবিচার, ষড়যন্ত্র কেমনে করলেন? হাই রে! চবি ছাত্রলীগ! ত্যাগ, পরিশ্রমের কোনো মূল্যই নেই, ধিক্কার আপনাদের।

চবির সাধারণ শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ জানান, দুই দিনের জন্য যারা পদ পেয়েছেন, তারা খুশি। কিন্তু যারা পদ পায়নি, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থির করার করবে। প্রতিবার কমিটি ঘোষণার পরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিপদে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত