টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে জঙ্গি প্রতিরোধে লিফলেট ও অনলাইনে প্রচারে গুরুত্ব

CTG-DCচট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  জঙ্গিগোষ্ঠীর কবল থেকে শিক্ষার্থী তথা যুব সমাজকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের পাশাপাশি লিফলেট বিলি ও অনলাইনে প্রচারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধিরা। একই সাথে শিক্ষার আড়ালে যাতে জঙ্গি তৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং যত্রতত্র গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা কমিটির সভায় এ সব প্রস্তাবনা উঠে আসে বক্তাদের কণ্ঠে।

সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জঙ্গি প্রতিরোধে ইমামদের পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সদস্য এবং পাড়া মহল্লা’র সর্দারদের সাথে বৈঠক করার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, ইমামদের ইচ্ছাতে নয় কমিটির সদস্যদের পছন্দ মোতাবেক মসজিদে ইমামদের বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, দেখা যাচ্ছে নামাজ কালামের ধারে কাছে নাই, অথচ ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ে বিপদগামী হয়ে পড়ছে।

অথচ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম সব সময় শান্তির দিকে মানুষকে ডাকে। কিন্তু আজ তথাকথিত জঙ্গিদের কারণে কারণে ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত হচ্ছে। তাই কাউকে অস্বাভাবিক মনে হলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করছি।

সভায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জেন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে মানুষ মেরে নিজে মরলে শহীদের মর্যাদা পাওয়া যাবে। খুব সহজে জান্নাতে যাওয়া যাবে। এ সব কথা বলে শিক্ষার্থী এবং উঠতি যুবকদের ব্রেনওয়াশ করা হচ্ছে। অথচ এরকম কাজ যারা করে তাদের স্থান জাহান্নামে। এজন্য শহীদের আসল সংজ্ঞা ব্যাপকহারে অনলাইন ও লিফলেট আকারে প্রচার করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সম্পর্কে জানবে। ফলে তাদের সহজেই ব্রেইনওয়াশ করা যাবে না।

সভায় বক্তরা বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধংস করে দিচ্ছে। নোটবই ও কোচিং সেন্টারের কারণে শিক্ষার্থীরা ছাত্রত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এসব কোচিং সেন্টার বন্ধের ব্যাপারে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সাথে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এসব কোচিং সেন্টার বন্ধ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তিনি বলেন, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে বিপদগামিতা থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান সময়ে জাতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং এগিয়ে যাওয়া দেখে পশ্চিমাগোষ্ঠীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা এ দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এক শ্রেণির বিপদগামী শিক্ষার্থীদের বেছে নিচ্ছে।

বক্তারা দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলেবাস থেকে শুরু করে সবকিছু সরকারকে যথাযথ নজরদারির আওতায় আনার অনুরোধ জানান।

এসময় রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার বাবুল, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহ, পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মফিজুর রহমান, জাপা নেতা সোলেমান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ার, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদ মাহমুদ, জাসদ নেতা ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা তাপস হোর, ইউএসটিসির অধ্যাপক মোস্তাফা কামাল, ইন্ডিপেন্ডেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমদ, জাসদ নেতা নুরুল আলম মন্টু, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার সাহাব উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন

মতামত