টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে রাঙ্গুনিয়ার হাবিব

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

habib-picচট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগরের হাবিবুর রহমান। নিজের দুই হাত না থাকলেও সে থেমে থাকেনি। অন্য স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের মতো সেও নিয়মিত স্কুলে যায়, ল্যাপটপ ব্যবহার করে, মোবাইল চালায়, নিজ হাতে খাওয়া, নিজ হাতে লেখা-পড়া এমনকি ক্রিকেট-ফুটবল, ক্যারামবোর্ডের মতো শারিরীক কসরতপূর্ণ খেলাধুলায় নৈপূন্য দেখায়। দক্ষিন রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের সিএনজি চালক বাবা মোহাম্মদ রমজান আলী। আর্থিক অনটনে দিন কাটালেও সে বরাবরের মতোই পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র হাবিব বিভিন্ন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পিএসসি (৫ম শ্রেণি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং জেএসসি(৮ম শ্রেণি) পরীক্ষায় ৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তার উদ্যমতা দেখে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ। পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে বিনা বেতনে পড়ালেখা ও সরকারী উপবৃত্তির ব্যবস্থা সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। পারিবারিক জীবনে হাবিব দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। মেধাবী হাবিবকে কোন প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে চলেছে সে।

হাবিব জানায়, শারিরীক প্রতিবন্ধকতা আমাকে থামানোর চেষ্টা করলেও আমি থামতে চাই না। আমি বড় হয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে আমার মত শারিরীক প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

হাবিবের মা রাশেদা বেগম জানান, হাবিবের বয়স যখন ৫ বছর তখন রাঙ্গুনিয়া থেকে খাগড়াছড়িতে যাওয়ার পথে রাঙ্গামাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি হাত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও অন্যটি থেতলে যায়। থেতলে যাওয়ার কারনে এক হাত কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু আমার ছেলে কখনও দমে যায়নি। আমরা তাকে পড়ালেখার খরচ দিতে না পারলেও তার মেধার কারণে সকলের সহযোগিতায় সে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, হাবীব খুব মেধাবী ছেলে। সে তার নিজ উদ্যেমে কারো সহায়তা ছাড়াই অন্য স্বাভাবিক ছেলেমেয়েদের মতো নিজেই লেখে এবং পড়ে। তাকে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরেও বিনা খরচে অতিরিক্ত শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে যতœ নিয়ে থাকি।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. ফজলুল করিম তালুকদার জানান, পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে বিনা খরচে পড়ালেখা ছাড়াও সরকারী উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান মাসুদ জানান, হাবিব প্রতিবন্ধী হলেও সে স্বাভাবিক সবকিছু চালিয়ে যাচ্ছে। সে সমাজসেবা অফিস থেকে নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় সরকার সবসময় তৎপর। প্রতিবন্ধী হওয়া সত্তে¡ও সে মেধাবী এবং নিজ হাতে সব করে। যেটি একটি ভাল দিক। তাকে সরকারী যাবতীয় সুযোগ সুবিধা যখন যা আসে তা প্রদান করা হবে।

মতামত