টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

জলাবদ্ধতায় বেহাল দশা বাণিজ্যিক রাজধানীর

চট্টগ্রাম, ১৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: মাত্র ঘণ্টাখানিকের বৃষ্টিতে বেহাল দশার সৃষ্টি হচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের।

জলাবদ্ধতার মহাসমস্যায় দুর্ভোগের শেষ নেই নগরবাসীর। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ সরকারি সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে যায় বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। নগরীর প্রধান সড়ক এশিয়ান হাইওয়ের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষণে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার সড়ক কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যায়।

সুমি রহমান, চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও চাকরি সূত্রে থাকেন মধ্যপ্রাচ্যে। ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামে এসে বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা দেখে তিনি রীতিমত স্তম্ভিত। সুমি রহমান বলেন, ‘শনিবার বিকেলে ছেলেকে নিয়ে তিনি নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। ক্লিনিকে প্রবেশ করতেই বৃষ্টি শুরু হয়। এক ঘণ্টা পর ক্লিনিক থেকে বের হয়ে দেখি প্রবর্তক মোড় যেনো একটি প্রবাহমান নদী। কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। এই কোমর পানি ডিঙিয়ে মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে বাসায় পৌঁছাতে আমার সময় লেগেছিল ৪ ঘণ্টা।’

চট্টগ্রাম আমবাগান আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই আড়াই ঘণ্টার বর্ষণে নগরীর নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মানুষকে ঘরে ফিরতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আগ্রাবাদ হাজি পাড়ার বাসিন্দা মো. জাফর জানান, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে কোমর সমান পানি প্রবাহিত হতে থাকে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টিতে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে রূপান্তরিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মতামত