টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অচল হয়ে পড়েছে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল

চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছে শত শত রোগী

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

Rangunia-news-pic--hospitalচট্টগ্রাম, ১৬  জুলাই (সিটিজি টাইমস):: নানা জটিলতার কারনে শতবর্ষী রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে । পরিচালক পদে জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রদান , গনহারে পদত্যাগ করায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেই রোগী। অসহায়ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও বন্ধ হওয়ার পথে। প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ১২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম পর্যায়ে। প্রাচীণ এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা । হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আউটডোর ও ইনডোরে রোগী নেই। পুরুষ ও মহিলা ওয়াডের্র বেড খালি পড়ে আছে। অপারেশন থিয়েটার কোনো কার্যক্রম নেই। গাইনী বিভাগে রোগী গেলেও চিকিৎসক না থাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এ হাসপাতালে।

পরিচালক পদে জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ : ভারপ্রাপ্ত পরিচালকসহ ১০ জনের গনপদত্যাগ

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শতবর্ষী চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টীয়ান হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. মং স্টিফেন চৌধুরী গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পান হাসপাতালের জৈষ্ঠ্য চিকিৎসক ডা. রনজিত চাকমা। দায়িত্ব পাওয়ার পর ’হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও হাসপাতালের নতুন পরিচালক নিয়োগের পাশা পাশি ডেপুটি পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াংকে জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রনজিত চাকমা ডা. উশানু, ডা. নিপাসহ অপারেশন বিভাগের ১০ কর্মচারী গন পদত্যাগ করেন। গন পদত্যাগে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে ভুগছে হাসপাতালটি। পরিচালক পদে জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন ও নিয়োগে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বাধ্যবাধকতা থাকায় এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের সোসিয়াল হেলথ এন্ড এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টীয়ান হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলে আসছে। গত ১ জুলাই হঠাৎ করে জনৈক ডাক্তার ডেভিট খানকে নিয়োগ দিয়ে পরিচালকের শূন্যপদ পূরণ করা হলেও ডেপুটি পরিচালক পদেও জুনিয়র একজন ডাক্তারকে নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে অসন্তোষ দেখা দেয়। চিকিৎসক ছাড়াও হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের সহ সভাপতি বাপ্পী সমাদ্দার বলেন সাংবিধানিক পদ হিসেবে নন্ খ্রিষ্টানদের হাতে প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেয়া যায় না। দীর্ঘদিন ডা. রনজিত ডেপুটি ডাইরেক্টর এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি লিখিত ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন না। অসন্তোষ জনিত কারণে হাসপাতাল অচলাবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ডাক্তার রনজিতকে ডেপুটি ডাইরেক্টর অপেক্ষা সম্মানী পদে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা হবে। এদিকে, ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের সা¤প্রদায়িক সাংবিধানিক নিয়মের কারণে হাসপাতালে কর্মরত অনেক কর্মচারী কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। ফলে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম ও বন্ধ হওয়ার পথে।

রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকার বাসিন্দা খিসা চাকমা (৫২) ৬ বছরের শিশু নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তিনি তার শিশুকে চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রাম শহরে ভর্তি করিয়েছেন। শহরে নিতে বিলম্ব হওয়ায় তার অবস্থা আশংকাজনক।

হাসপাতালের সাবেক পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) ডা. রনজিত চাকমা জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত এ হাসপাতালের নিবিড়িভাবে রোগীদের সেবা দিয়েছি। জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন ও সা¤প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে হাসপাতালের নতুন পরিচালক দায়িত্ব পাওয়ায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকুরী থেকে পদত্যাগ করেছেন। চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত ও সাধারণ রোগীরা জীবন ঝুঁকিতে পড়েছেন।

পরিচালক পদে সদ্য যোগদানকারী ডা. ডেভিট খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারা পদত্যাগ করলেও ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ বিষয়টি দেখছেন। ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ তাদেরকে সম্মানজনক পদে রাখবেন। হাসপাতালের অচলাবস্থার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের কারণে হাসপাতালে রোগী কম। তাই এটিকে অচলাবস্থা বলা যায় না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত