টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম মেডিকেলের জমিতেই হবে বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম, ১৫  জুলাই (সিটিজি টাইমস):: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসেই পাহাড়ি জমিতে হবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।’

শুক্রবার সকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান ।

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টার ও অধ্যক্ষের বাংলো সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখানে প্রচুর জায়গা আছে। হিলটপ এরিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়টা করলে তা ‍দৃষ্টিনন্দন হবে। ফার্স্ট টাইম ইন বাংলাদেশ এটা। পাহাড়ের ওপর একটা দৃষ্টিন্দন বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে।’

পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ ও গাছপালা ঠিক রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানান গণপূর্তমন্ত্রী।

পরিদর্শনে উপস্থিত বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি মুজিবুল হক খান বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেলের মোট জমির পরিমাণ ৭৮ একর। ক্যাম্পাসেই ১৫ একর খালি জমি পাওয়া গেছে। এখানে সুন্দরভাবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ সম্ভব।’

কলেজ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মিত হলে তা শিক্ষার্র্থী ও সেবাপ্রার্থী-সবার জন্যেই ভালো হবে বলে মনে করেন চিকিৎসক সংগঠনের নেতা মুজিবুল হক খান।

এর আগে ১ জুলাই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম চট্টগ্রাম মেডিকেল ক্যাম্পাসেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা দেন।

ওইদিন নাসিম বলেন, ‘চট্টগ্রামের সন্তান গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে।’

শুক্রবার পরিদর্শনের সময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘প্রকৌশলী ও স্থপতিরা বিবেচনা করে তাদের পর্যবেক্ষণ জানাবেন। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হবে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ হাসপাতালের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫০০। এটাকে আমাদের উন্নীত করতে হবে দুই হাজার থেকে চার হাজারে। সুতরাং আমরা এটার ক্ষমতা বৃদ্ধি করব এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গেলে আমাদের পুরনো যে ভবনগুলো আছে সেগুলো ভেঙে ২০ তলা পর্যন্ত করব।’

এ বিষয়ে মুজিবুল হক খান বলেন, ‘প্রথমে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে। তারপর চট্টগ্রাম মেডিকেলের আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেওয়া হবে।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন সরফরাজ খান, স্বাচিপ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ডা. শেখ সফিউল আজম, বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শরীফ ও স্বাচিপ মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। এর প্রেক্ষিতে সরকার গত বছর এই চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেয়।

শুরুতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকেই (চমেক) বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার নেতারা।

এর বিরোধিতা করে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মাঠে নামে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি নামের একটি সংগঠন ও মেডিকেলের কর্মচারীরা।

এরপর সম্পূর্ণ আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হলেও স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা শুরু হয়।

একপক্ষ মেডিকেল কলেজ এলাকায় এবং অন্য পক্ষ ফৌজদারহাট বক্ষব্যধি হাসপাতাল এলাকায় এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানাতে থাকে।

সর্বশেষ ১ জুলাই চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত