টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে বাড়ছে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘খুন’

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

Cox-Murder-Picচট্টগ্রাম, ১৫  জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে চলেছে। বেড়ে চলছে ‘খুন’র ঘটনা। অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ‘ক্রস ফায়ার’র নামে হত্যা করা হচ্ছে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও। তুচ্ছ ঘটনায় আইন হাতে তুলে নিচ্ছে যে কেউ। অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসী ও ক্যাডারদের হাতে হাতে। ঈদ ও পর্যটন মৌসুম টার্গেট করে আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আবারো জড়ো হচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজনকে। বৌদ্ধমন্দিরের ‘কর্তৃত্ব’ নিতে নিজ অনুসারীর হাতে ‘ভিক্ষুর’ ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে দশটি মন্দিরে হামলাসহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে ‘আইএস’র পরিচয়ে ‘ওড়ো চিঠি’তে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিৎ দাশ সদর থানায় জিডি করেছেন। তাতে তিনি জীবন নিয়ে আশঙ্কা করেছেন।

এতে শেষ নয়, কথায় কথায় খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে লোকজন। ঘুম ভাঙলেই লাশের গন্ধ। ঝোপ জঙ্গল থেকেও উদ্ধার হচ্ছে ‘গুলিবিদ্ধ’ নিথর মানবদেহ। পরিস্থিতি সামাল দেয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষেও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চারজন নেতা নির্মমভাবে খুন হয়েছেন তাদের নিকটাত্মীয়দের হাতে। এরমধ্যে দুই নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে। এসব ঘটনায় খোদ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ।

৩০ জুন বৃহ¯পতিবার দিবাগত রাত ২টায় চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে আপন ভাতিজার হাতে নির্মমভাবে খুন হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল হুদা (৫৮)। বদরখালী বাজারে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে তাকে তুলে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে ভাতিজারা। তিনি বদরখালী ৩ নম্বর বøক এলাকার মৃত আবুল আহমদের ছেলে।

৩ জুলাই রোববার রাত সাড়ে ৯টায় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সোনাদিয়ার আলোচিত আবদুল গফুর প্রকাশ নাগু মেম্বারকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপরে সন্ত্রাসীরা। তিনি উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সোনাদিয়া ওয়ার্ডের মেম্বার। নাগু মেম্বারের ভাই বাহাদুরের ছেলে সরওয়ার প্রকাশ বতৈল্যার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। তিনি তারাবি পড়ে বাড়ি ফেরার পথে একটু এগোতেই হামলার শিকার হন। পেছন থেকে তাকে গুলি করার পর উপর্যুপরি কোপানোও হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নাগু মেম্বারের মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাÐ স¤পর্কে স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে নাগু মেম্বার তার ভাতিজা আলোচিত জলদস্যু মোকারম জাম্বু ও সরওয়ার বতৈল্যার মধ্যে দ্ব›দ্ব চলে আসছিল। সাগরের দস্যুতার আধিপত্য ও পারিবারিক স¤পত্তি নিয়ে এই দ্ব›দ্ব ছিল। একসময় নাগু মেম্বার ও জাম্বু বাহিনী একসাথে সাগরে দস্যুতা চালালেও দুই বছর ধরে তাদের স¤পর্ক খারাপ ছিল। একপর্যায়ে জাম্বুর বাহিনী সাগরে বেপরোয়া ফিশিং বোটে ডাকাতি চালালেও ভালো পথে ফিরে আসে নাগু মেম্বার। পরে জলদস্যুতা রোধে প্রশাসন ও লোকজনকে নিয়ে মাঠে নামেন নাগু মেম্বার। এতে জাম্বুদের সাথে তার স¤পর্ক খারাপের দিকে যায়। শেষ পর্যন্ত স্তব্ধ হয়ে পথের কাঁটা সরাতে নাগু মেম্বারকে নির্দয়ভাবে খুন করেছে জাম্বু বাহিনী। নিহত নাগু মেম্বার গত তিন বছর ধরে মতাসীন আওয়ামী লীগের কুতুবজোম ইউনিয়ন শাখার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই সাথে তিনি সোনাদিয়া ওয়ার্ডের কয়েকবারের বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত মেম্বার।

একই দিন মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে কুতুবজোম কামিতার পাড়া এলাকার মো.জহির প্রকাশ খলিলের ছেলে মো.শহীদুল্লাহ (২২) খুন হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কামিতারপাড়ার বাসিন্দা শহিদুল্লাহর সাথে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনার মোহাম্মদ হাবিবের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন সকালে শহিদুল্লাহ জমিতে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শহিদুল্লাহকে গুলি করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাগু মেম্বারকে গুলি করার ৫ ঘণ্টা পার না হতে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয় টেকনাফ সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। রাত আড়াইটায় সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়ায় তিন রাস্তার মাথা এলাকায় বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে।

৩০ জুন শনিবার কক্সবাজার জেলার সীমান্ত এলাকা বাইশারীতে মং শৈলু মারমা নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

১৫ জুন গভীর রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদের শাহ ফকির বাজার এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যায় প্রবাস ফেরত আবছার কামাল (৩৩)। আবছার কামাল ভারুয়াখালী ইউনিয়নের হাজীপাড়ার নজির আহমদের ছেলে। আতœীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে খুনের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ আল আকাশ নামে আরেক ব্যবসায়ী নেতা আহত হয়েছেন।

১৬ জুন শনিবার রামু উপজেলার ঈদগড়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন হোমিও চিকিৎক ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন। তিনি ইউনিয়নের শরিফ পাড়ার ফয়েজ আহমদ মিয়াজীর ছেলে। জমির বিরোধ নিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে স্থানীয় সুত্রের দাবী। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টোসহ প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।

২০ জুন সোমবার কক্সবাজার শহরে আবাসিক এক হোটেলের সুইমিংপুলে গোসল করতে নেমে ফয়েজুল হক সাগর (১৩) নামে কক্সবাজার কেজি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাগর কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদÐী ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ার মোহাম্মদ বেদার মিয়ার ছেলে। তার বাবা এ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী। তবে তিনি তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

২৩ জুন বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কক্সবাজার সদর উপজেলায় খরুলিয়ায় দুই ভাইয়ের পিটুনিতে নিহত হন ছালামতুল্লাহ বাবুল (৪৫)। বাবুল একটি ডেভেলপার কো¤পানিতে কাজ করতেন। নিহত বাবুলের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকিা সেলিনা ইয়াছমিন সাংবাদিকদের জানান, পৈতৃক জমি নিয়ে তার ভাসুর আমানত উল্লাহ ও দেবর বেলায়েত উল্লাহর সাথে তার স্বামীর বিরোধ ছিল। তার স্বামী বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে শ্রমিক নিয়োগ করলে আমানত উল্লাহ ও বেলায়েত শ্রমিকদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন। ছালামত উল্লাহ এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকে বেদম মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

একই দিন টেকনাফের হ্নীলার জাদিমুড়া গ্রামে গৃহবধূ মরিয়ম খাতুনকে (৩০) ছুরিকাঘাতে খুন করে তার জা হাছিনা (২৮)। জা মরিয়ম খুনের দুই দিন পর পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঘাতক জা হাছিনা (২৮) মারা যায়।

১ জুলাই শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার শহরের জেলখানার পেছনের সিকদার ঘোনা এলাকার ঝোপ থেকে ঈসমাইল (২৬) নামে এক যুবকের ‘গুলিবিদ্ধ’ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, সন্ত্রাসী গ্রæপের প্রতিপক্ষের লোকজন অথবা নিজেদের মধ্যে অন্ত:কোন্দলে এ খুন সংঘটিত হয়েছে। তার বুকে একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত ইসমাঈল শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার দীল মোহাম্মদের ছেলে।

৪ জুলাই কক্সবাজারে একটি আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হোটেলের রেজিস্টার খাতায় তার নাম অনম্বয় শংকর চৌধুরী (২৯) এবং সে হবিগঞ্জের শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোড এলাকার অসিত চৌধুরীর ছেলে।

৮ জুলাই ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে শওকত আলী ওরফে শের আলী (৩০)। সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের সাততারা নামক স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শওকত আলী পূর্ব পোকখালীর আবুল কালাম প্রকাশ রাজু ফকিরের ছেলে। নিহতের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর ও চকরিয়া থানায় খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে, নিহতের পরিবারের দাবী শওকতকে পুলিশ পরিচয়ে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। শওকত সবেমাত্র প্রবাস থেকে দেশে ফেরেছেন।

১০ জুলাই দিনগত রাত ৩টার দিকে রামু চা বাগান এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জসীম উদ্দিন খোকন (৩৫) নামে আরেক যুবক মারা গেছে। নিহত খোকন কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত ওয়াহিদুল আলমের ছেলে।

পুলিশ দাবী করেছে, জসীম উদ্দিন খোকন একজন চিহ্নিত ডাকাত। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। তৎমধ্যে কক্সবাজার সদর থানায় ১৩টি ও রামু থানায় ৪টি।

অন্যদিকে, নিহতের স্বজনদের দাবী খোকন একজন দোকানদার। পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাকে ‘ক্রস ফায়ার’ দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করেছে নিহত খোকনের পরিবার।

১১ জুলাই সোমবার ভোরে মহেশখালীর শাপলাপুর জেএম ঘাট এলাকা থেকে লোকমান হাকিম (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত লোকমান হাকিম জেমঘাট নয়াপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

একই দিন ভোর রাত ৫ টার দিকে মহেশখালীর কালারমার ছড়ার মাইজ পাড়ার পাহাড়ী এলাকায় দুই ডাকাত দলের মধ্যে ‘বন্দুকযদ্ধে’ ফরিদুল আলম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। তবে, তিনি ডাকাত সর্দার বলে পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের দাবী। নিহত ফরিদ কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার মৃত বদিউল আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই,অস্ত্র সহ ২৪ মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

১৩ জুলাই কক্সবাজার উইমাতারা ক্যাং’র ‘কর্তৃত্ব ও জমি বিরোধ’ নিয়ে ভিক্ষু উ পাঁই দিত্বা (৭৭)কে কুপিয়ে-পিঠিয়ে জখম করেছে তারই অনুসারী আরেক ভিক্ষু ময় অং রাখাইন। আহত ভিক্ষু বর্তমানে হাসপাতালের বেড়ে কাতরাচ্ছে।

একইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে টেকনাফের হ্নীলার ১৪ নং ব্রীজ সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকা থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা দুইজনই সোনাদিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর নাগু হত্যাকান্ডের আসামী সরওয়ার কামাল প্রকাশ বতইল্লা ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ। পুলিশ দুই ডাকাতদলের মধ্যে গুলাগুলিতে তারা মারা গেছে জানালেও নিহতদের পরিবারের দাবী, পুরিশ পরিচয়ে তাদের উখিয়া কোর্টবাজার থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অপর দিকে খুনের পাশাপাশি প্রায় প্রতি রাতে জেলার কোথাও না কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। ৭ জুলাই বৃহ¯পতিবার সকাল ১০টায় চকরিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে মা ভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতদল প্রকাশ্যে ওই ভবনের ভাড়াটিয়া প্রবাসী মাহমুদুল হকের বাসায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই লাখ টাকা, ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে যায় বলে জানান মাহমুদুল হকের নিকটাত্মীয়  সংবাদকর্মী জিয়া উদ্দিন ফারুক। ৪ জুলাই চকরিয়ার এক ঠিকাদারের বাড়িতে ডাকাতি হয়।

১০ জুলাই শহরের কচ্ছপিয়া পুকুর পাড় এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষ মারমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় একপক্ষ অপর পক্ষকে অস্ত্র উচিয়ে হুমকি প্রদর্শন করে। তাতে পুরো এলাকায় ভীতি সঞ্চার হয়। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে চলে যায়। ওই সময় প্রদর্শিত অস্ত্রটি রহস্যজনকভাবে ‘গায়েব’ হয়ে যায়। তাছাড়া ওই এলাকার চিহ্নিত তিনটি বাড়ীতে প্রতিদিন ‘মদ ও জোয়ার আসর’ বসে বলে সেখানকার মানুষের অভিযোগ। এসব অপরাধকর্মে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির ইন্দন থাকার কথা এলাকাবাসীর মুখে ওঠে এসেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শ্যামল কান্তি নাথ জানান, জেলায় পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি জনগণের জীবন-স¤পদ রক্ষায় পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। তার মতে, খুনের ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিক এবং পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত হচ্ছে। খুনি এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে।

মতামত