টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়ার দ্বীপ চরতীতে নদীভাঙ্গনে মলিন ঈদ আনন্দ

শহীদুল ইসলাম বাবর
বিশেষ প্রতিনিধি

satkania-1চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি,ঈদ বয়ে আনুক সুখ আর সমৃদ্ধি এমন প্রবাদ চালু থাকলেও দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিন দ্বীপ চরতীর অন্তত ১০ হাজারেরও অধিক মানুষের ক্ষেত্রে ঈদ নিয়ে এসেছে হতাশা আর বিষাশের ছায়া। ঈদের বেশ কয়েক দিন আগে থেকে প্রবল বর্ষনে শঙ্খ নদীতে সৃষ্ট শ্রোতের তোড়ে শঙ্খনদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে দ্বীপ চরতী দক্ষিণ পাড়ার সুরম্য মসজিদ আর দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার পাচঁটি ক্লাস রুম আর তিনটি কবরস্থান। এর আগে ২০১০ সালে অন্তত ৭০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ মসিজদটি গত বৎসর থেকে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। আর ঈদের আগের দিন মসজিদটি সম্পূর্ণ রূপে নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। শুধু এ মসজিদটি নয়, এ কয়েক দিনে নদীর করালগ্রামে পতিত হয়েছে অন্তত ৩৫/৪০টি বসত ঘর, ভাঙ্গনের ভয়াবহতায় পুরো গ্রামের মানুষই আতংকিত হয়ে পড়েছে। কারন ভাঙ্গনের মাত্রা এতই বেশি যে, পুরো গ্রামটি নদীতে তলীয়ে যেতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হবেনা বলেই মনে করেন সচেতন মহল। তবে ভাঙ্গনের বিষয়টি নিজে অবগত আছেন উল্লেখ করে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, আমি ভাঙ্গনরোধে উদ্যেগ নেব। এদিকে ঈদের পরের দিন গত শুক্রবার দুপুুরে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ উল্যাহ ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরির্দশন করেছেন। সরেজমিন পরির্দশনকালে দেখা যায়, হঠাৎ করে ব্যাপক আকারে নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় আতংকগ্রস্থ বাসিন্দারা নিজের বসত ঘর খুলে অন্যত্রে সরিয়ে নিচ্ছে। চরম ঝুকিতে থাকা বসত ঘর সরিয়ে নিতে একে অপরকে সহায়তা করছে। বসত ঘরের মালামাল সরিয়ে নিলেও অনেক পরিবার থাকার কোন বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপলের সামিয়ানাতে কাল যাপন করছে কয়েকটি পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম জজ আদালতের আইনজীবি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে প্রবল বর্ষনের ফলে শঙ্খনদীতে ব্যাপক শ্রোতের সৃষ্টি হয়। আর এ শ্রোতের তোড়ে সর্ম্পূণ রূপে বিলীন হয়ে গেছে দ্বীপ চরতী দক্ষিন পাড়া শাহী জামে মসজিদ। আর অন্তত পাচঁটি ক্লাশ রুম নদীগর্ভে হারিয়ে গিয়ে বন্দ হওয়ার উপক্রম দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসাটি প্রতি বৎসর দাখিলের ফলাফলে পুরো উপজেলায় সৃষ্ট হয়ে আসছিল। ব্যাপক নদী ভাঙ্গনে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাঠ নদীতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে স্থানীয় বাসিন্দারা এবারের ঈদের নামাজ আদায় করেছে খোলা আঙ্গিনায়। সেখানে ঈদ আনন্দের পরিবর্তে সৃষ্টি হয় বিষাদের ছায়া। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মাদ্রাসা ও বসত ঘর হারিয়ে নির্বাক দ্বীপ চরতীর মানুষ।

satkania-2
সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতিক বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট প্রবল শ্রোতে জাহাঙ্গীর ফকির, সাবের আহমদ, মোহাম্মদ হারুন, মাহবুব, আহমদ ছফা, মইজুর রহমান,সৈয়দ আহমদ,আবুল হাসিম, মোহাম্মদ ইউনুছ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ,মাঈনুদ্দিন ও নুরুল আবসারসহ অন্তত ২০/২৫টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঈদের পরের দিন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ দ্বীপ চরতী এলাকা সরেজমিন পরির্দশন করেছন। জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ উল্যাহ ভাঙ্গনের তীব্রতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশী। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদ, মাদ্রাসা ও ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করে মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি অর্থ বরাদ্ধ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে। তবে আপাতত ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ৫০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, গত বৎসরে উক্ত মসজিদটি ভাঙ্গনের কবলে পড়লে সংসদ সদস্য প্রফেসর ড আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, তার সহধর্মিনি আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া রেজা চৌধুরী সরেজমিন পরির্দশন করেছিলেন।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে আছে, ভাঙ্গন রোধে আমি উদ্যেগে নেব।

মতামত