টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদের রঙ্গিন কাপড়ের মানুষগুলো সাদা কফিনে মোড়ানো

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে 

চট্টগ্রাম, ০৯ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  সবে মাত্র ঈদের আনন্দ বুঝতে শেখা আট বছরের আজমান বাবার অবর্তমানে চাচার সাথে নতুন কাপড় পড়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল নানা বাড়ি যাবে বলে। চাচা নুরুল ইসালামও বাড়ির সামনে নিজের ক্ষুদ্র দোকানটি বন্ধ রেখে ভাতিজাদের বাবার অভাবটা পূরণ করতে যাত্রা করেছিলেন ভাতিজাদের আনন্দের সামিল হতে। কি করে বুঝতে পারবেন তিনি, তার শিশুকাল থেকে চেনা নদীর বুকে ভাতীজাদের বাঁচাতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, নৌকাটি যখন উল্টে যায়, সাথে থাকা দুই ভাতিজার একজনকে প্রথমে ডাঙ্গায় তুলেন তিনি, অপরজন আজমানকে তুলে আনতে জোয়ারের পানিতে ঝাঁপ দেন নুরুল ইসলাম। সেই ঝাঁপে যে শুধু ভাতিজা নয়, নিজেও পানির স্্রতে ভেসে যান। পরের দিন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেসে উঠে তার নিথর দেহ। ভাতিজা আজমনের লাশও মেলে তার কিছুটা দূরে। ঈদের এমন আনন্দঘন দিনে একটি পরিবারের দু‘জনের এমন করুণ কাহিনী কতটা কষ্টের তা লিখে বর্ণনা করা কখনো সম্ভব নয়। আজমানের বাবা প্রবাসী। তার পরিবারে গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ফটিকছড়িতে হালদায় নৌকা ডুবিতে নিহত হয়েছে আরো একটি পরিবারের দু‘জন শিশু। তারা হলো-
রিমন(১৮), তার ছোট ভাই রহিম(১৩)। রিমনের লাশটি পাওয়া গেলেও রহিমের লাশ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ওরা হতদরিদ্্র রিক্সা চালক কামালের ছেলে। নানার বাড়িতে ঈদ করতে এসে ফিরে যাচ্ছিল পরিবারের সাথে আপননীড়ে। সেদিন ওই নৌকায় মা-বাবা ভাই বোনসহ ওই পরিবারের ১১ সদস্য ছিল নৌকাটিতে। যখনই নৌকাটি ডুবে উল্টে যাচ্ছিল , মা-বাবা আপ্রাণ চেষ্টায় কয়েকজনকে বাঁচাতে পারলেও আটকাতে পারলেন না দুই সন্তানকে।

তাদের মা গার্মেন্টসকর্মী দেলোয়ারা চোখের সামনে নিজের দুই ছেলের ডুবে যাওয়া দেখেছিলেন। বাবার বার মুর্চা যাচ্ছিলেন তিনি, বুক চাপড়ে চাপড়ে বার বার বলছিলেন, ও খোদা এগিন কি দেখালি আঁরে (হে আল­াহ এটা কি দেখালি আমাকে)।

ঘটনায় নিহত অপরজন রেজভীও(১৫) ঈদের নতুন কাপড় পড়ে বেড়াতে বের হয়েছিল । কি এক এমন করুণ নিয়তি ঈদের রঙ্গিন কাপড়পড়া মানুষগুলো সাদা কফিনে মোড়ানো শুয়ে রয়লো অনন্তকালের জন্য।

মতামত