টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবান ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

বান্দরবানে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, হাফেজ ঘোনা, কালাঘাটা, বনরুপা, ক্যাচিং ঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড় ধ্বস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।

এদিকে অবিরাম বর্ষণ অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে তা বিভিন্ন ঝিরি, ছড়া দিয়ে ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

এছাড়া বান্দরবানের দক্ষিণাঞ্চল লামা, আজিজনগর, ফাসিয়াখালী, ফাইতং, গজালিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম এসব এলাকায়ও পাহাড়ের পাদদেশে নতুন নতুন বসতি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে ৭ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিত ভাবে বসতবাড়ী গড়ে তুলেছে হাজার হাজার পরিবার। বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষ নিধনের কারণে ঘটেছে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা।

ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের মতে, বেঁচে থাকার তাগিদে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন তারা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলে প্রশাসনের মুখ থেকে আশার বাণী ছাড়া তারা আর কিছুই পাচ্ছেন না। বৃষ্টি শুরু হলে লোকজনকে মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া এবং কাগজে কলমে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজে কর্মে কিছুই নেই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে এবং সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করার জন্য যথাযথভাবে প্রক্রিয়া নিয়েছি। আশা করি তাদের পুনর্বাসিত করে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে পারবো। কেননা এরা খুব ঝুঁকিতেই বসবাস করে এবং একটু বৃষ্টি হলেই খুব বিপদের সম্ভাবনা থাকে। কাজেই আমাদের চিন্তাভাবনা আছে আমরা তাদের পুনর্বাসিত করে ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেব।

এদিকে সরকারি সূত্রমতে, পাহাড় ধসে ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, লামা, ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নারী শিশুসহ ৭২ জন লোক মারা যায়। দ্রুত পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরিয়ে না নিলে পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মতামত