টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম রামগড়ের ঈদ বাজার

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

news-photoচট্টগ্রাম, ০১ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে রামগড়ের বিপনী বিতানগুলো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচাণায় মুখর থাকে বিপনী বিতান। পাশাপাশি নি¤œআয়ের মানুষের ভরসাস্থল ফুতপাতের দোকনেও কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে রোযার শুরুতে বৃষ্টি এখন শেষ দিকে তিব্র গরমে মার্কেটগুলো আগেভাগে জমে না উঠলেও শেষ দিকে এসে বেচাকেনার ধুম পড়েছে।

ঈদকে টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানে প্রতিবছরের মতো উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত এ তিন শ্রেণীর ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে বিপনীবিতানগুলো সাজিয়ে রেখেছেন । নারীদের জন্য বরাবরের মত হলিউড, বলিউড ও ঢালিউডের বিখ্যাত ছবির নামকরণে বাহারি ডিজাইনের দেশ-বিদেশী শাড়ি, থ্রি-পিচ মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে বাহুবলী ও বাজিরাও মাস্তানি তরুনীদের মন কেড়ে নিচ্ছে তাছাড়া সাহারা, ঝলক, নন্দিনী পোশাকেরও কদর রয়েছে।

এছাড়াও আছে বিভিন্ন নামের সুতি ও জর্জেটের কাজ করা থ্রি-পিস, ঘাঘড়া, লেহেঙ্গা, টপস ইত্যাদি। ছোটদের জন্য বরাবরের মত ফ্রক, স্কাট, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া। তরুণদের পচন্দের কালেকশনে নকশা করা রকমারি পাঞ্জাবী, হাল ফ্যাশনের কালরিং ন্যারো জিন্স, গ্যাভাইডিং প্যান্ট, বডি ফিটিং শার্ট, টি-শার্ট। আকর্ষনীয় ডিজাইনের সুতা, জুতা, সান্ডেল, প্রসাধনী। এমনকি টুপিসহ সুগন্ধি পসরা, সাজিয়েছেন মনের মতো করে। মান ও প্রকারভেদে এসব পণ্যের দামেও রয়েছে ভিন্নতা।

এবারের ঈদে রামগড়ে অতিরিক্ত লোডশেডিং, লো-ভোলটেজ এর কারণে বিক্রেতারা ঠিকমত ক্রেতাদের নিকট পচন্দের পোষাকটি উপস্থাপন করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত খরচে মাসিক ভাড়ায় ডিজেলচালিত জেনারেটরের লাইন নিয়ে আলোকসজ্জা করেছেন। এদিকে বেশিরভাগ টেইলার্স রোযার মাঝামাঝি সময়ে অর্ডর নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে যথাসময়ে ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সময় পার করলেও বিভ্রত হচ্ছেন লোডশেডিং এর কারণে।

উজেলার প্রসিন্ধ ও ব্যস্ততম বাজারের মধ্যে উপজেলা সদর ও সোনাইপুল বাজার বরাবরের মতো অন্যতম। এসব বাজারের ছোট বড় প্রায় সব দোকন ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি দোকনে নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুনীর উপচেপড়া ভিড়। কেনাকাটায় ব্যস্তা দোকানীরা যেন দম পেলার ফুসরত নেই।

পরিবার পরিজন নিয়ে আসা প্রবাসী আলম শরীফ জানান, এক সময় খাগড়াছড়ি, ফেনী ও চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে হতো আর এখন শহরের একই পণ্য স্থানিয় মার্কেটগুলেতে সহজে পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু কিছু পণ্যে দোকনিরা অতিরিক্ত দাম হাকাচ্ছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রামগড়ের প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান হিল ভিউর স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর ও সোনাইপুলের নয়ন ড্রেস হাউজের আমীর হোসেন জানান, ১৫ রমজানের পর থেকে মার্কেটে ক্রেতাদের সরগরম হচ্ছে। দিন যতই এগুচ্ছে বিক্রিও তত বাড়ছে। তবে গত বছরের তুলনায় সকল পণ্যের দাম একটু বেশি হলেও গুণগত মান বেড়েছে ।

ঈদকে সামনে রেখে আইন শৃংখলা রক্ষায় কি কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খান জানান, পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজন সেখানে তাৎক্ষনিক ফোস মোতায়ন করা হবে।

মতামত