টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বারইয়াহাট পৌরসদরে প্রতিদিন বিকিকিনি দুই কোটি টাকা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai_Business_Photoiচট্টগ্রাম, ০১ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। এখন চলছে শেষ মূহর্তের কেনাকাটা। উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত বারইয়াহাট পৌরসদরে কেবলমাত্র বস্ত্র বিকিকিনি বাবদ প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে গড়ে দুই কোটি টাকা। ওই বাজারে দেড়শ কাপড়ের দোকান ও ১৫০টি গার্মেন্ট সামগ্রীতে এ পরিমাণ বিকিকিনি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মুসলিম স¤প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নূতন জামা চাই-ই চাই; সেই আকাঙ্খা পূরণ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমে উঠছে বস্ত্রের দোকানগুলো। তবে রাত ৯টার মধ্যেই আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। সরেজমিন ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেল, বারইয়াহাট পৌরসদরে মোট ক্রেতার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।

কর্মব্যস্ত পুরুষরা কাঙ্খিত নতুন জামাটি সংগ্রহ করতে এখনও দোকানে দোকানে পদধূলি না দিলেও শেষতক তারাও সামিল হবেন গন্তব্যে- এ প্রত্যাশা সকল ব্যবসায়ীরা। অনেকের মতে, পুরুষদের বেশিরভাগই ঈদের আগের রাতের প্রতীক্ষায় থাকেন। অনেকে আবার কাজের ফাঁকে সময় করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও কেনাকাটা সরতে পারছেন না। দীর্ঘ ছুটিতে আসা চাকুরেরাই কেবল সেরে নিচ্ছেন ঈদের বস্ত্র কেনার কাজটি।

জানা গেছে, বারইয়াহাট পৌরসদরে কাপড়ের দোকানের সংখ্যা প্রায় দেড়শ। এসব দোকানে সর্বনিন্ম ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮লাখ টাকা পর্যন্ত বিকিকিনি হচ্ছে। আর ১২০টি গার্মেন্টের দোকানে সর্বনিন্ম ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। এক হিসেবে জানা গেছে, কাপড় ও গার্মেন্টের দোকানগুলোতে প্রতিদিন কেবল বস্ত্রখাতে লেনদেন হচ্ছে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা। বারইয়ারহাটে এবারের ঈদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গ্রীণ টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স। এই টাওয়ারে অবস্থিত বিভিন্ন আইটেমের দোকানে প্রতিদিন ভীড় করছেন ক্রেতারা। এখানে রয়েছে দেশ সেরা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড শো-রুম, লটো, বাটা বাজার, লাকি শপিং মল, লাকি বুটিকস, সাব্বির শাড়ীজ, রাজকুমার জেন্টস কর্ণার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

বারইয়ারহাটে সবচেয়ে বেশি বিকিকিনি হচ্ছে মসজিদ গলিতে অবস্থিত লাকী ক্লথ এন্ড গার্মেন্টেসে। প্রতিষ্ঠানটির সত্ত¡াধিকারী শামসুদ্দীন জানান, প্রতিবছরের মত এ বছরও তার প্রতিষ্ঠানে ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। পন্যের গুনাগুন বিচার করে ক্রেতারা আমার প্রতিষ্ঠানে আসছে। ঈদের যে কয়েকদিন বাকী আছে সে সময়ে বেচাকেনা আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

আল-আমিন শপিং কমপ্লেক্সের মাতৃছায়া বুটিকস‘র সত্ত¡াধিকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও আমার প্রতিষ্ঠানে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের সমাহার রয়েছে। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে পছন্দমত ক্রয় করছেন ক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

শেষ পর্যন্ত পুরুষরা ঈদের কেনাকাটায় সামিল হলে গার্মেন্ট সামগ্রীর দোকানের বিক্রি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি নারী ক্রেতাদের বেশি ভিড় থাকার কারণে কাপড়ের দোকানগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই পাওয়া যাচ্ছে না। দম ফেলার সুযোগ নেই ব্যবসায়ীদের। তবে শেষ পর্যন্ত এসব দোকানে ক্রেতার ভিড় কমে যেতে পারে বলেও আশংকা তাদের।

বারইয়ারহাট পৌর বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ বলেন, উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম বানিজ্যিক কেন্দ্র হল বারইয়ারহাট। মিরসরাই ছাড়াও ফেনীর ছাগলনাইয়া, খাগড়াছড়ির রামগড়, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার লোকজন বারইয়ারহাট থেকে ঈদের বাজার সদায় করে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত