টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদকে সামনে রেখে নতুন সাজে রাঙ্গুনিয়া শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারি পার্ক

পর্যটকদের আকর্ষন দেশের দীর্ঘতম ক্যাবল কার

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

Ranguniaচট্টগ্রাম, ২৯  জুন (সিটিজি টাইমস)::ঈদে বিনোদন পিয়াসীদের ঠিকানা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনার সীমান্তবর্তী হোছনাবাদে শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক। ঈদকে সামনে রেখে রুপসী কাপ্তাইয়ের প্রবেশের আগে বিনোদন প্রেমীদের জন্য নব সাজে সেজেছে রাঙ্গুনিয়ার নতুন এই পর্যটন স্পটটি। ট্যুরিষ্টদের কাছে টানতে আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার পর্যটককে আনন্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে ষ্পটটি। বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ এই পাহাড়ি বন-বাদারে শত শত পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। পাখিদের কলতানে মুখরিত হয় সবুজ বন। আর মাথার সিঁথির মতো এ বনের ফাঁক দিয়ে বয়ে চলা পথে ঘুরে বেড়াতে কতো যে আনন্দ তার কোনো সীমা নেই। পাখিদের অভয়ারণ্যের পাশাপাশি ভ্রমণ বিলাসিদের বিনোদনের জন্যে উন্মুক্ত এই পার্ক। বিনোদন স্পটে দেশের দীর্ঘতম ক্যাবল কারে করে কৃত্রিম লেকের উপর ঘুরে বেড়ানো যায়। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো যা বিনোদন প্রেমিদের বাড়তি আনন্দ দেবে। চারিদিকে সবুজ ঘন গাছপালা। স্ব পরিবার ও কাছের মানুষকে নিয়ে মনোরম পরিবেশে গেলে আনন্দটা জমে উঠবে। এ বিনোদন কেন্দ্রের পাশেই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিল। তার ১ কিলোমিটার পূর্বে গেলে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক, কর্নফুলি পাড়ে জুম রেস্তোরা, বনশ্রী পর্যটন, নেভী পার্ক ও সর্বশেষ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

দেশের মধ্যে এই ধরনের পার্ক নির্মানে বর্তমান সরকারের সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি এই উদ্যোগ গ্রহন করেন। শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারি পার্ক বাংলাদেশের একমাত্র পাখিশালা। এই পক্ষিশালায় যোগ হয়েছে দেশী প্রজাতির পাখির পাশাপাশি আফ্রিকার পলিক্যান, ইলেকট্রাস প্যারট, সোয়ান, রিং ন্যাক, মেকাউ, টার্কি । পাশাপাশি ক্যাবল কার স্থাপন হওয়ায় দেশের মানুষের বিনোদন জগতে নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। পার্কের অভ্যন্তরে সড়ক, লেক, রিটার্নিং ওয়াল, গেস্ট হাউজ, ফুট ব্রীজ, গুহা, পাখি, ময়ূর ও হরিণসহ বিভিন্ন দেশি বিদেশী পক্ষিকুল বিচরণের খাঁচা, এ্যামিউজমেন্ট, গোলঘর, দোলনা, স্লিপিং রয়েছে। আম, জাম, বহেরা, ডুমুর, জামরুল, আমলকি, হরিতকি, চাপালিশ, সোনালু ডাকিজাম তেতুলসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির দেশীয় ও বনজ জাতের ফলের চারা রোপনের মাধ্যমে পাখীখাদ্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ করা হয়েছে পক্ষীশালাকে। পার্কে এক ধরনের বিশেষ নেট দিয়ে পুরো ৫’শ ২০ একর পাহাড়ি ভ‚মির অনেক উঁচুতে উপরিভাগ ঘিরে দেয়া হয়। ভেতরে গড়ে তোলা হয় শত শত প্রজাতির পাখিদের অভয়ারণ্য। আর এতেই পক্ষীকুল ফিরে পায় নিরাপদ আবাসস্থল। পার্কে গিয়ে দেখা যায় ঈদকে সামনে রেখে নতুন সাজে সাজ সাজ রব। কৃত্রিম লেকের চারিপাশে আলোকসজ্জা করে পর্যটকদের কাছে টানতে বাড়তি আয়োজন সম্পন্ন করেছে।

ঈদে বিনোদন প্রেমিরা যেতে চাইলে চট্টগ্রাম- কাপ্তাই সড়ক পথে চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক ঘন্টার সময়ে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনায় নতুন এই বিনোদন স্পটে পৌঁছে যাবেন অনায়াসে।

চটগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও পার্কের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাশ জানান, নতুন অর্থ বছরে পার্কে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে কৃত্রিম লেক তৈরি করা হবে। নতুনত্ব আনা হবে এই পার্কে । পর্যটকদের জন্য ঈদে নতুন বিদেশী পাখি আনা হয়েছে। এবার ঈদে বিনোদন প্রেমীদের আরো বেশি ভালো লাগবে আশা করছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত