টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোটি টাকায় নির্মিত ওভার ব্রিজগুলো কাজে আসছেনা

ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন মানুষ, ঘটছে দুর্ঘটনা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ছবিঃ এম মাঈন উদ্দিন

ছবিঃ এম মাঈন উদ্দিন

চট্টগ্রাম, ২৮  জুন (সিটিজি টাইমস):: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসাইয়ের ৩০ কিলোমিটার এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ফুট ওভারব্রিজ গুলো কোন কাজে আসছেনা। ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেনা পথচারীরা। ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হওয়ার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত সোমবার (২৭ জুন) বারইয়ারহাটে সড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাক চাপায় এক নারী নিহত হয়। সম্প্রতি সড়ক পার হতে গিয়ে একই স্থানে ভ্রাম্যমাণ একজন লুঙ্গি বিক্রেতা লরি চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এর পর ট্রাফিক পুলিশ একটু নড়ে চড়ে উঠলেও ঘটনার ২ ঘণ্টার মাথায় ফের মানুষের অবাধে চলাচল শুরু হয়।

এ বিষয়ে বারইয়ারহাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই সোলায়মান বলেন, যেখানে দুর্ঘটনাটি হয়েছে সে অংশ দিয়ে প্রতি দিনে রাতে হাজার হাজার মানুষ সড়ক পারাপার হচ্ছে। আমরা কতক্ষন পাহারা দিয়ে রাখবো। অনেক সময় বাধা দিলে পথচারিদের সাথে আমাদের বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হতে হয়। সওজকে একাধিকবার ফাঁকা স্থানটি বন্ধ করার জন্য বললেও তারা কালক্ষেপণ করছেন।

এ দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরসরাইয়ের ধুমঘাট থেকে বড়দারোহাট পর্যন্ত ৪টি ওভারব্রিজ নির্মান করা হয়েছে। প্রতিটি ওভারব্রিজ নির্মানে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯৪ লাখ থেকে ১কোটি ২৫ লাখ টাকা। অথচ তা আজ মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কারণ পথচারীরা কোনভাবেই ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছেন না। ফলেই স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক বিভিন্ন নামে শুভেচ্ছা জানিয়ে কিংবা দোকানের বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যানার আর ফেস্টুন লাগিয়ে রেখেছে।

এদিকে এসব ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে যেটা দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সময় (যখন ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি) মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার কেন্দ্রীক মাঝা-মাঝি স্থানে একটি বাস যাতায়াতের মত স্থান ফাঁকা রেখেছেন। যা দিয়ে পথচারীসহ মোটর সাইকেল, রিক্সা ও ছোট যান পারাপার হচ্ছে। আর এদিকে এদের পারাপারে সুযোগ দিতে সড়কে চলাচলরত বাস ট্রাকগুলোকে তাদের গতি কমিয়ে আনতে হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় চলমান গাড়িগুলো থেমে থাকে আর পথচারীরা পারাপার হচ্ছে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, দ্রæত গতিতে আসা কিছু যান খুব জোরে ব্রেক কষেও পথচারীদের রক্ষা করতে পারে না। সড়কের মাঝে ফাঁকাস্থান গুলো আজো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনের কর্তৃপক্ষ প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, মহাসড়কটিকে চারলেনে উন্নীত করতে গিয়ে সড়কের মাঝে অর্থাৎ চারলেন নির্ধারণ করার জন্য আইল্যান্ডের ব্যবহার করতে হয়েছে। কারণ ওই সময় পথচারীদের পারাপারের কোন মাধ্যম ছিলোনা। সেজন্য আমরা সড়কের বাজারে মাঝামাঝি কিছু স্থানে আইল্যান্ড না দিয়ে ফাঁকা রেখেছিলাম। কিন্তু পরবর্তিতে ফুটওভার ব্রিজ ও ইউটার্ন নির্মাণ করা হলেও ফাঁকা স্থানটি বন্ধ করতে গেলে বিভিন্ন রকমের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। কারা বাধা দিয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় বাজার কমিটি, বাজারের ব্যবসায়ীরা এবং পৌর কর্তৃপক্ষও অনুরোধ করেছেন। আমাদের প্রকল্পের ৯৯ শতাংশ কাজ পরিপূর্ণ হলে আমরা এই ফাঁকাস্থান গুলো বন্ধ করে দেব। এখন করছেন না কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন করতে গেলে স্থানীয়ভাবে বাধা আসতে পারে যার ফলে প্রকল্পের সময় ধীরগতি হতে পারে। শেষ সময়ে করলে তখন আর কোন সমস্যা থাকবে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত