টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজার শহরে লাইসেন্স বিহীন সাড়ে তিন হাজার টমটম

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

Cox-Tamtam-picচট্টগ্রাম, ২৮  জুন (সিটিজি টাইমস):: কক্সবাজার শহরে লাইসেন্সবিহীন চলছে সাড়ে তিন হাজারের অধিক টমটম-অটোরিক্সা। পৌরসভার হিসাবে যে আড়াই হাজার টমটম রয়েছে সেখানেও লাইসেন্স নবায়ন করেছে দেড় হাজার মতো। বাকী এক হাজার টমটম গাড়ী এখনো লাইসেন্স নবায়ন করেনি। তবে, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক নুরুল হকের ভাষ্য মতে, এ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া দেড় হাজার লাইসেন্স নবায়ন করেছে। নতুন কোন লাইসেন্স আপাততঃ ইস্যু করা হচ্ছেনা। পুরাতন সব গাড়ী লাইসেন্স এর আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ ওঠছে, শুধু গত দুই বছরে কক্সবাজার শহরে লাইসেন্সবিহীন টমটম-অটোরিক্সা দ্বিগুন বেড়েছে। এসবের মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার ইউনিটি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাস্তুহারালীগসহ বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা। গত দুই দিন আগে ‘মোঃ ছালেহ আহদ, কমান্ডার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহেশখালী উপজেলা কমান্ড’ স্টিকার লাগানো একটি টমটম আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে ওই গাড়ীর চালক নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবী করে ট্রাফিক পুলিশের সাথে অনেক দেন দরবার করে।

একইভাবে বিভিন্ন ভূইফোঁড় পত্রিকা, সাংবাদিকের নামেও অবৈধ টমটম অটোরিক্সা চলছে। তবে, অধিকাংশ লাইসেন্সবিহীন টমটম ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে চলার কারণে ‘থোরাই কেয়ার’ মানসিকতা চালকদের।

অভিযোগ হচ্ছে, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দুর্বলতায় বাড়ছে অবৈধ টমটম। পরিবেশ রক্ষার তাগিদে শহরে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধের উদ্যোগ কিছুটা সফল হলেও নতুন করে টমটম জটে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী।

শহরজুড়ে অবৈধ টমটমের রাজত্বের পেছনে ‘ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি’ অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন পৌরবাসী। কোন অবৈধ টমটম ধরা পড়লেও ‘টু-পাইস’ দিলেই তা ছাড়া পেয়ে যায়। একটি টমটম ধরা পড়লে ২২০০ টাকা দিলেই সমাধান। অনেক সময় নেতাদের ‘লাল ফোনে’ও টমটম ছেড়ে দিতে বাধ্য হন ট্রাফিক পুলিশ, এমন অভিযোগ দির্ঘদিনের।

ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী বলেন, শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক পুলিশের ১৫ জন সদস্য কাজ করছে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের ২০ জন ও কমিউনিটি পুলিশের ২৫ জন সদস্য ২ শিফটে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় টমটম-অটো রিক্সা অতিরিক্ত হয়ে গেছে। অদক্ষ চালক ও শহরে বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তার মতে, শত চেষ্টা করেও শহরকে যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। টমটম চালকদের ‘কমন সেন্স’ নেই। যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

এদিকে কক্সবাজার শহরে একাধিক সড়ক থাকলেও প্রধান সড়কটিই একমাত্র যানবাহন চলাচলের উপযোগী। শহরের আভ্যন্তরিন সড়কগুলো দখল বেদখলে কাহিল। তাই প্রধান সড়কেই চাপ পড়ে সব ধরণের যানবাহনের। শহরকে যানজটমুক্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন শহরে বড় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। তবে ছোট যানবাহন চলাচলের সুযোগে দিনভর টমটমের দখলে থাকে শহরের রাস্তা-ঘাট। কিন্তু প্রয়োজনের চারগুণেরও বেশী চলাচলের কারণে সৃষ্টি হয় নতুন করে টমটম জট।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, যানজট কমাতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত আছে। অবৈধ টমটমের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে অন্তত একবার অভিযান চালানো হয়। তবে, অনেক সময় অবৈধ টমটম আটক করা হলেও বিভিন্ন মহলের তদবিরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মতামত