টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে হাসিনার জনসভায় গুলির মামলায় পূর্তমন্ত্রীর সাক্ষ্য

চট্টগ্রাম, ২৬  জুন (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামে ২৮ বছর আগে শেখ হাসিনার সমাবেশে পুলিশের গুলির মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে এ মামলার ৩৭তম সাক্ষী হিসেবে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

মোশাররফ হোসেন তার জবানবন্দিতে বলেন, “শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেদিন গুলি চালানো হয়েছিল। উনাকে লক্ষ্য করে চালানো গুলি ভাগ্যক্রমে গায়ে লাগেনি।”

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আদালত ভবনে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে ২৪ জন নিহত হন।

মোশাররফ হোসেন আদালতকে বলেন সেদিন ‘বিনা উসকানিতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ ঘটানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন জানান, তিন মাস আগে মামলাটি বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর হয়ে এলে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ, ড. অনুপম সেনসহ ছয়জনের নামে সমন জারি করে আদালত।

এর ধারাবাহিকতায় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন গত ২৬ মে এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

২৮ বছর আগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অনুপম সেন সেদিন আদালতে বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকে তিনিসহ প্রায় ৩০ জনের মত ছিলেন। আনুমানিক বেলা ১টার দিকে ট্রাকটি আদালত ভবনের দিকে এলে গুলি শুরু হয়।

“বিভিন্ন জনকে গুলিকে খেয়ে আমি কাতরাতে দেখিছি। অনেককে প্রাণরক্ষার চেষ্টা করতেও দেখেছি। পরে শুনেছি গুলিতে মোট ২৪জন মারা গেছেন।”

সেদিন নিহতরা হলেন- হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম. স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, মসর দত্ত, হাশেম মিয়া, মো. কাশেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, মো. শাহাদাত।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদী হয়ে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ঘটনায়।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ১৯৯৮ সালের ১৪ মে সহকারী পুলিশ কমিশনার হাফিজ উদ্দিন দেওয়ান ৪৭ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।

ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। ১৯৯৯ সালের ১৪ অক্টোবর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার কাদের খান সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

অভিযোগপত্রে মীর্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল ওরফে জেসি মণ্ডল, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মমতাজ উদ্দিন, শাহ মো. আব্দুল্লাহ, বশির উদ্দিনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামি কনস্টেবল বশির উদ্দিন, বাদী অ্যাডভোকেট শহীদুল হুদা এবং শেষ তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার কাদের খান ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

অন্যতম আসামি কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক জেসি মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত