টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদকে সামনে রেখে রামগড়ে সক্রিয় মাদক ব্যবসা; প্রতিরোধে এলাকবাসীর রাত জেগে পাহারা

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) থেকে

চট্টগ্রাম, ২৬   জুন (সিটিজি টাইমস):: সীমান্তবর্তী খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে মাদক বিক্রেতা ও চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। যার কারণ স্কুল কলেজগামী কিশোর তরুনদের মধ্যে মাদকের ব্যবহার ও পাচার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতেই অভিভাবকমহল চরম উদ্ধেগ ও উৎকন্ঠায় পড়েছেন। উপায়অন্তর না পেয়ে সীমান্তবর্তী দারগাপাড়া এলাকায় স্থানিয়রা গভীর রাত পর্যন্ত মাদক ও চোরাকারবারী প্রতিরোধে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। তাতেই যদি এই মরণনেশার ছোবল থেকে কোমলমতি সন্তানদের বাঁচাতে পারেন এ আশায় আইনশৃংখলা বাহীনিকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহŸান জানিয়েছেন।

সরেজমিনে ও স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণীর চোরাকারবারিরা এসব অবৈধ মালামাল রামগড়ের মহামুনি, সোনাইপুল, ফেনীরকুল, দারোগাপাড়া, বল্টুরাম, কাশিবাড়ি, পিলাক, বেলতলা, নাকাপা, জালিয়াপাড়াসহ প্রভৃতি সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এনে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছেন। এ কাজে রাতের বেলায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী মহামুনি, দারগাপাড়া, রামগড় আবাসিক এলাকা, বল্টুরাম ও কাশিবাড়ি এলাকাকে চোরাকারবারীরা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভারত থেকে আসা ফেন্সিডিল, ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ, গাঁজা এবং দেশীয় চোরাই মদ এখানে সহজলভ্যে পরিণত হওয়াতে রামগড়ের হোটেল, রেস্ট হাউজ, লেকসহ নির্জনস্থানে ফেন্সিডিল, ভারতীয় মাদকের খোলস চোখে পড়ারমত।

এদিকে সম্প্রতি শেষ হওয়া রামগড় ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনে ব্যস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখকে পাকি দিয়ে মাদকের দোরাত্ব বেড়ে গেলেও সম্প্রতি পুলিশ ও বিজিবির অভিযানে বেশ কয়েকটি মাদক ব্যবসায়ী ও চোরকারবারীকে হাতেনাতে আটক করে জেল হাজতে পাঠানোসহ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমান করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ২৮ মার্চ রামগড় ১৬ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘ একবছরে রামগড়ের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে আটককৃত ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ফেন্সিডিল ধ্বংশ করে।

সীমান্তবর্তী ৯নং পৌর কাউন্সিলর আবুল কাশেম জানান, মাহমুনি ও দারগাপাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরকারবারীদের অতিষ্ট যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে ও বাঁচাতে এলাকার সচেতন নাগরিকদের নিয়ে দিনে ও রাত পাহারা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েজনকে আটক ও সেবনকারীকে হাসপাতালে ফেরন করা হয়। তবে তিনি এ এলাকায় পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছেন।

রামগড় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশের পক্ষে একক ভাবে মাদকের মুলৎপাটন করা সম্ভব নয় এজন্য স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের আন্তরিকতা জরুরী। তবে মাদক ও চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যহত আছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে একশ্রেণীর ছদ্দবেশী যুবক এসব অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এসব সন্দেহভাজনদের উপর প্রশাসনের তীক্ষ দৃষ্টি রয়েছে। নিয়মিত এসব মাদক ও চোরাকরাবারীদে আইনের আওতায় এনে শান্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত