টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভীড়

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Eid-Bajar-Photoচট্টগ্রাম, ২১ জুন (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। উপজেলার বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় রয়েছে। ঈদকে ঘিরে নারী-শিশুর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সবগুলো বিপনি বিতান। পছন্দের জিনিসটি কিনতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছেন নানা শ্রেণীর ক্রেতারা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিপনিবিতানগুলো নতুন সাজে রঙ-বেরঙে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি লাকি কুপনের আয়োজন ও করেছে কয়েকটি মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি।

সরেজমিন উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বারইয়ারহাটের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সব শ্রেণীর মানুষ। ভিড় জমাচ্ছেন মার্কেটগুলোতে। পেশার মানুষ তাদের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারছেন। পছন্দের জিনিসটি কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। আর ক্রেতাদের পছন্দের পণ্যটি তুলে ধরতে ব্যস্ত বিক্রেতারাও। সবচেয়ে বেশি ভীড় লক্ষ্য করা গেছে মসজিদ গলির লাকী ক্লথে। এছাড়াও পালকি ক্লথ, আল আমিন মার্কেটের মাতৃছায়া বুটিকস, গ্রীণ টাওয়ারের শপিং কমপ্লেক্সের সব দোকান, লাকি বুটিকস, আল আমিন মার্কেট, জমিদার মার্কেট, জামালপুর সুপার মার্কেট, মহিউদ্দিন বাবুল মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, মসজিদ মার্কেট ও সেঞ্চুরী শপিং কমপ্লেক্সে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড় রয়েছে। শাড়ী থ্রিপিসের পাশাপাশি প্রসাধনী, পারফিউম, কসমেটিক সামগ্রী, জুতা সহ বিভিন্ন পন্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা। বারইয়ারহাট হাসান সুজ, আয়েশা সুজ, গ্রীন টাওয়ারে অবস্থিত লটো, বাটা বাজার, আল আমিন মার্কেটে এপেক্স শো-রুমে ভালো বিকিকিনি লক্ষ করা গেছে। পাঞ্জাবীর জন্য লাকি শপিং মল, সেঞ্চুরী শপিং কমপ্লেক্সের ওয়ান ফ্যাশনে ক্রেতাদের ভীড় দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলার জোরারগঞ্জের যুবরাজ মার্কেট, আল-মদিনা শপিং সেন্টার, স্কুল মার্কেট, মিঠাছরার শাহজাহান সুপার মার্কেট, মিরসরাই সদরে টুকু মিয়া মার্কেট, কাশেম শপিং সেন্টার, আবুতোরাব, নিজামপুর কলেজ, বড়দারোগাহাট বাজারে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। বিক্রির দিক থেকে এবারো শীর্ষে রয়েছেন বারইয়ারহাটের ঐতিহ্যবাহী লাকি ক্লথ ও মিঠাছড়া আল-আমিন।

দোকানগুলোতে বরাবরের মতো এবারো শিশু ও মেয়েদের পোশাকে ভারতীয় ছাপ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এগুলোর চাহিদাও অনেক। ফলে ক্রেতার তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। শিশুদের পোশাকের মধ্যে পাখি, নীলপরি, জয়া, রামলীলা, লেটপার্টি, রোহী, বড়পাখি ডায়না ইত্যাদি নানা নামের বাহারি রঙ-বেরঙের পোশাক। এবার এবার নতুন আইটেম যোগ হয়েছে বাজরাঙ্গি ভাইজান, বাহুবল, দিলওয়ালে ও আইপিএল। এছাড়া ভারতীয় সিরিয়ালের নামে কিরণমালা, ইস্কেলিলা, বিন্দান, কটকটি, বজ্রমালা, হদিসমালা, ফ্লোরটার্চ, জলপরি, ইচ্ছেনদী, পারি, ঝিলিক, রাজকন্যা, লাবণ্য, ঝিলমিল, পাটিয়ালি, শঙ্কমালা, নন্দিনী, আখিঁ, পাখি, জলনুপুর উলে¬যোগ্য।

বারইয়ারহাট লাকি ক্লথ‘র সত্ত¡াধিকারী মোঃ শামসুদ্দিন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নিত্য নতুন শাড়ী, থ্রিপিছ, লেহেঙ্গা, বাচ্ছাদের জামা ও পাঞ্জাবারী কালেকশান রয়েছে আমার প্রতিষ্ঠানে। ক্রেতারা তাদের পছন্দমতে কেনাকাটা করছে। বিক্রি ভালো হচ্ছে। ২০ রমজানের পর বিক্রি আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

সেঞ্চুরী শপিং কমপ্লেক্সের ওয়ান ফ্যাশনের সত্ত¡াধিকারী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, দিন-রাত সমান তালে বিক্রয় হচ্ছে। দিনে গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের আনা-গোনা সব চাইতে বেশি। নতুন নামে ও ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট, শ্যার্ট পাঞ্জাবী ও টি-শ্যার্ট ও পাঞ্জাবী রাখা হয়েছে।

আল-আমিন শপিং সেন্টারের মাতৃছায়া বুটিকস‘এর সত্ত¡াধিকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের চাইতে এবার ভালো বিক্রি হচ্ছে। মূলত শবেবরাতের পর থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। আর ক’দিন পর ভিড় বেশি হবে বলে আগে থেকেই চলে আসছেন ক্রেতারা।

জোরারগঞ্জ থেকে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ রেহেনা আক্তার বলেন, বারইয়ারহাটের বিপনী বিতানগুলোতে সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। আর কোথাও ঘুরতে হয় না। তাই যে কোনো ধরনের উৎসবে এখানে চলে আসি। শেষের দিকে ভিড় বাড়লে বের হতে কষ্ট হয়। তাই আগেই কিনে নিচ্ছি।

গ্রীণ টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রীণ টাওয়ারকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে জাকজমকপূর্ণ এবং রঙ বেরঙে। প্রতিটি দোকানেই নিত্য নতুন ঈদ কালেকশনে সু-সজ্জিত। মার্কেটে প্রতিদিন ক্রেতারা ভীড় করছে। শাড়ী, থ্রিপিস, পাঞ্জাবী, জুতো এবং বাচ্ছাদের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় রয়েছে চোখে পড়ার মত। মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষনের জন্য লাকী কুপনের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন র‌্যাপেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত