টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে অবৈধ বালুর রমরমা বাণিজ্য আন্তঃসড়কের বেহাল দশা ! জনদূর্ভোগ চরমে

হুমকিরমুখে ব্রীজ-কালর্ভাট-সেতু, সড়কের অস্থিত্ব বিলীন!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

011চট্টগ্রাম, ২০ জুন (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের হালদা খালের উজানস্থ মানিকছড়ির অর্ধ পয়েন্টে বিরামহীন বঅলু উত্তোলন ও অবাধে পাচারের কারণে উপজেলার আন্তঃসড়কের বেহাল দশা! পাকা ও আধাপাকা সড়কের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হুমকির মূখে পড়েছে। এর পলে তৃণমূলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে জনদূভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ প্রভাবশালীরা দাপটের সহিদ ইজারা ছাড়াই এসব বালু প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে শহরে অবাধে পাচার করে আসছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহর কেন্দ্রিক নির্মাণাধীন স্থাপনায় মানিকছড়ি উপজেলাস্থ হালদা খালের উজানের বালু প্রসিদ্ধ। ফলে দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে অবাধে বালু ব্যবসা চলছে এখানে। এতে করে উপজেলার তৃণমূলের অর্ধশত কিলোমিটার পাকা ও আধাপাকা (সলিং) রাস্তা অকালে যৌবন হারিয়ে ফেলেছে। গাড়ীটানা-যোগ্যাছোলা-কালাপানি সড়কের ১০ কিলোমিটার, মানিকছড়ি-বড়বিল-কালাপানি সড়কের ১৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, মানিকছড়ি-চেঙ্গুছড়া-যোগ্যাছোলা সড়কের ৭ কিলোমিটার পাকা ও আধাপাকা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক হিনো ও টাটা ট্রাক মাত্রাতিরিক্ত লোডে বালু নিয়ে চলাচলের কারণে সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে রাস্তার চিহ্ন মুছে গেছে! যদিও প্রশাসন তিন/চার বছর অন্তর অন্তর সড়কগুলোতে কার্পেটিং (সংস্কার) করালেও কাজ শেষ হতে না হতেই বড়জোড় ১/২ মাসের মধ্যে সড়কগুলো আবার যৌবনাত্ব হারায়। এ সড়কের বালু ব্যবসা করে যোগ্যাছোলা, বড়বিল,তুলাবিলের অনেক ছোট ছোট ব্যবসায়ী জিরো থেকে হিরো হয়েছে। গত ৩/৪ বছর যোগ্যাছোলা খালের ৪টি পয়েন্টকে সরকার বালু মহাল ঘোষণা করে ইজারা দেয়। অর্ধকোটি টাকার বালু মহাল নামমাত্র মূলে এনে স্থানীয়রা আবার তা অর্ধকোটি টাকায় সাব ইজারা দেয়! এতে সরকার একদিকে রাজস্ব থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প (রাস্তা) অকালেই বিনষ্ট হচ্ছে। আর বড়বিল ও তুলাবিলসহ ওই জনপদে ইজারা ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে বালু উত্তোলন। চলতি বছর (বাংলা) এ উপজেলায় এখনো বালু ইজারা দেয়নি প্রশাসন। কিন্তু তাতে কী? এক মূর্হুত্বের জন্যও বালু উত্তোলন বন্ধ করেনি কেউ ! আইন-কানুন অমান্য করে যোগ্যাছোলা, চেঙ্গুছড়া, বড়বিল, তুলাবিল, গোরখানা ও ছদরখীল থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক বালু অবাধে অনায়াসে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত লোডে বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে আন্তঃসড়কে সড়কের বহাল দশা সৃষ্টি হওয়ায় মানিকছড়ি বাজার ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। যার ফলে গত ৬ জুন উপজেলার আইন-শৃংখলা সভায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মারমা অবৈধ বালুর গাড়ী জব্দ করতে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়। সভা শেষে বিকালে পুলিশ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের আমতলায় বালুবাহী বেশ কয়েকটি ট্রাক আটক করলে ইউএনও যুথিকা সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওইসব ট্রাকগুলোকে জরিমানা করেন। এভাবে দু’চার দিন লোক দেখানো অভিযান চললেও পরে তা আবার থেমে গেছে! গত ১৪ জুন বালু ব্যবসায়ীর একটি গ্রুপ উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মারমার সাথে সাক্ষাত করেন। চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদেরকে মিনি ট্রাকে বালু পাচারের নির্দেশ দেন। কিন্তু সে নিদের্শ কেউই মানেনি! অবস্থা দৃষ্ঠে মনে হচ্ছে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় (ইজারা ছাড়াই) এখানে বালু ব্যবসা অবাধে চলছে। যা এখন পর্যন্ত কেউ স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি! যার কারণে উপজেলার আন্তঃসড়কগুলো কার্যত ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। উপজেলার সদরের সাথে ওইসব জনপদের লোকজন অনায়াসে যাতায়াত করতে পারছেনা।
মানিকছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা তুষার পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চেষ্ঠা করছি, কিন্তু কিছুতেই সফল হতে পারছিনা। বাজারের রাস্তাগুলো ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত ক্রেতা কমছে। যার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে এ বালু ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। প্রতিটি পয়েন্টে উপজাতি সন্ত্রাসীরা চাঁদা এবং প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের নামে টোল নিচ্ছে! কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ডে তা জমা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মানিকছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মানিকছড়ি বার্তাকে বলেন, ইউপি আইনে এ ধরণের টোল আদায়ের বিধান নেই, কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইউপি’র রশিদ চাপিয়ে পরিষদের নামে চাঁদাবাজি করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আলহাজ্ব মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইউনিয়নের আন্তঃসড়কগুলোর ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫/৭ টন। কিন্তু এখানে যে হারে ৪০/৪৫ টন ওজনের ট্রাক চলাচল করছে তাতে রাস্তার অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মতামত